
বাংলাদেশ ব্যাটারদের আরেকটি বিপর্যয়ের দিন শেষদিকে নেমে দারুণ ক্যামিও খেলেন রিশাদ হোসেন। তার ১৪ বলে ৩৯ রানের ইনিংসেই দুইশ ছাড়ানো পুঁজি পায় বাংলাদেশ। রান তাড়ায় টাইগারদের দেয়া ২১৪ রানের লক্ষ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ব্যাট করতে নামলে ম্যাচ হয় টাই। সুপার ওভারে ক্যারিবিয়ানদের ১১ রানের লক্ষ্যে বাংলাদেশ থামে ৯ রানে। সুপার ওভারে প্রথম ইনিংসে ঝড়ো ব্যাটিং করা রিশাদকে না নামতে দেখে ক্রিকেটপ্রেমীদের সঙ্গে অবাক হয়েছেন ক্যারিবিয়ানদের জয়ের নায়ক আকিল হোসেনও।
রিশাদকে ডাগ আউটে বসিয়ে ৬ বলে ১১ রানের সমীকরণ মেলাতে পারেনি বাংলাদেশ। তাই কোচ থেকে শুরু করে অধিনায়ক এমনকি টিম ম্যানেজমেন্ট নিয়েও সমালোচনার ঝড় বয়ে যাচ্ছে। টসে জিতে মঙ্গলবার আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ৭ উইকেটে ২১৩ রান তোলে বাংলাদেশ। রান তাড়ায় ৯ উইকেটে বাংলাদেশের সমান রানে থামে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
দ্বিতীয় ওয়ানডেতেই মাঠে নেমে ক্যারিবিয়ানদের জয়ের নায়ক বনে যান আকিল হোসেন। একটি ওয়াইড এবং নো বলে কোনো বল খরচ না করেই ৫ রান দিয়ে বসেন সফরকারী স্পিনার। শেষ ৫ বলে ৬ রান তুলতে পারেনি মেহেদী হাসান মিরাজের দল। সংবাদ সম্মেলনে টাইগারভক্তদের মতো বিস্ময় প্রকাশ করেন আকিলও। তিনি বলেন, ‘আমি কিছুটা অবাক হয়েছি। ম্যাচে সবচেয়ে আক্রমণাত্মক ছিল রিশাদ, ১৪ বলে ৩৬ করেছে। তাকে সুপার ওভারে পাঠায়নি! বাউন্ডারির ছোট পাশটায় সে মারতে পারত, দু’টি ছক্কা তো ওদিক দিয়েই মেরেছিল। আমরা সবাই কিছুটা অবাক হয়েছি, তবে এ সিদ্ধান্ত আমাদের পক্ষেই এসেছে। রিশাদ লম্বা, হাতে মার আছে। তবে তারা তাকে ব্যাটিংয়ে পাঠায়নি!’
বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ৪৫ রানের ইনিংস খেলতে ৮৯ বল খেলেন ওপেনার সৌম্য সরকার। তৃতীয় সর্বোচ্চ রানের মালিক মেহেদী হাসান মিরাজ ৫৮ বলে করেন ৩২ রান। স্ট্রাইক রেট একশ’র কাছাকাছি রাখতে পারেন আর শুধু নুরুল হাসান সোহান, ২৪ বলে ২৩।
এমন দিনে যখন দলীয় দুইশ’ রানই নাগালের বাইরে মনে হচ্ছিল, তখন নয় নম্বরে নেমে ঝড়ো ব্যাট চালান রিশাদ। ৩টি করে চার-ছক্কায় ১৪ বলে খেলেন ৩৯ রানের অপরাজিত ইনিংস। পরে বল হাতেও তুলে নেন ৩ উইকেট। ম্যাচ সুপার ওভারে গড়ালে ১০ রানে ১ উইকেট নেন মোস্তাফিজুর রহমান। এরপর সবাইকে অবাক করে দিয়ে ক্যারিবিয়ানদের দেয়া লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নামেন সৌম্য আর সাইফ হোসেন। চতুর্থ বলে সৌম্য আউট হলে এবার সবাইকে বিস্মিত করে দিয়েই ক্রিজে যান নাজমুল হোসেন শান্ত।
