
লন্ডন: যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে এক অত্যন্ত আবেগপূর্ণ মুহূর্তের মধ্য দিয়ে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম [৪]। তবে ব্যক্তিগত জীবনের এই আবহের মধ্যেই তার নেতৃত্বাধীন সরকার অবৈধ অভিবাসন ও অনিয়মিত শ্রমবাজার নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান স্পষ্ট করেছে।
মায়ের দোয়া ও বাবার স্মৃতি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশবাসীর উদ্দেশে প্রথম ভাষণের আগে ডাউনিং স্ট্রিটে নিজের মা আইলিন বার্নহ্যামকে জড়িয়ে ধরেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম । এই হৃদয়স্পর্শী দৃশ্যটি দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে । তবে এই বিশেষ দিনে বার্নহ্যামের মনে এক বড় আক্ষেপ রয়ে গেছে; তার বাবা রয় বার্নহ্যাম আলঝেইমার রোগে আক্রান্ত হওয়ায় জানতে পারছেন না যে তার সন্তান এখন দেশের শীর্ষ নেতা । বার্নহ্যাম এই ঐতিহাসিক অর্জনকে তার পুরো পরিবারের সাফল্য হিসেবে অভিহিত করেছেন ।
অভিবাসন বিরোধী অভিযানে ব্যাপক গতি বার্নহ্যামের নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে বড় ধরনের অভিযান শুরু হয়েছে । ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট টিম গত দেড় বছরে দেশজুড়ে বিপুল সংখ্যক অভিযান পরিচালনা করেছে, যা রেকর্ড সংখ্যক গ্রেপ্তারের পথ তৈরি করেছে। আগের তুলনায় বর্তমান সময়ে অভিযানের হার এবং অবৈধভাবে কাজ করার অভিযোগে গ্রেপ্তারের পরিমাণ কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে [৯]। বিশেষ করে নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডে এই কঠোরতা অতীতের সব নজির ছাড়িয়ে গেছে ।
নজরে অবৈধ শ্রমবাজার কর্তৃপক্ষ এখন বিশেষভাবে সেই সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের দিকে নজর দিচ্ছে যেখানে অবৈধ শ্রমিক নিয়োগের ঝুঁকি বেশি থাকে। এর মধ্যে প্রধানত রয়েছে নেইল সেলুন, গাড়ি ধোয়ার কেন্দ্র (কার ওয়াশ), নাপিতের দোকান এবং টেকঅ্যাওয়ে রেস্তোরাঁ । সরকারের মতে, এসব কর্মকাণ্ড কেবল বৈধ শ্রমবাজারের ক্ষতি করছে না, বরং অপরাধী চক্রকেও উৎসাহিত করছে ।
আধুনিক প্রযুক্তি ও কঠোর প্রত্যাবাসন নীতি অবৈধ অভিবাসন রোধে সরকার কেবল অভিযানই জোরদার করেনি, বরং বিপুল সংখ্যক অনিয়মিত অভিবাসীকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়াও দ্রুততর করেছে । ছোট নৌকায় করে অবৈধভাবে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ বন্ধ করতে এবং মানবপাচার রোধে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে ।
অভিযান ও বিচার প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও শক্তিশালী করতে কর্মকর্তাদের বডিওর্ন ভিডিও প্রযুক্তি দেওয়া হয়েছে [১৪]। এ ছাড়া, কাজের অধিকার যাচাইয়ের ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে ডিজিটাল আইডি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের, যাতে অবৈধভাবে কাজ পাওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে ।
হোম অফিসের ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট বিভাগের পরিচালক এডি মন্টগোমারি সতর্ক করে জানিয়েছেন, অভিবাসন আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রাম—সর্বত্র এই তল্লাশি ও কঠোর ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে ।
