
বাংলাদেশের জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ অধিভুক্ত ফেডারেশন, অ্যাসোসিয়েশনের সংখ্যা ছিল ৫৫। তবে গতকাল ক্রীড়া পরিষদের এক প্রজ্ঞাপনে ঘুড়ি, প্যারা আরচ্যারি ও খিউকুশিন কারাতে অ্যাসোসিয়েশনকে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। এ নিয়ে ক্রীড়া পরিষদ অধিভুক্ত ফেডারেশন, অ্যাসোসিয়েশনের সংখ্যা দাঁড়ালো ৫২-তে। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ আইন ২০১৮ ক্ষমতাবলে এটি বাস্তবায়ন করা হয়।
৫ই আগস্ট এর পর সরকার পরিবর্তন পরবর্তী সময়ে ক্রীড়াঙ্গনে এটাই প্রথম সাংগঠনিক কাঠামোগত সংস্কার হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে। তবে এ তিন অ্যাসোসিয়েশনে নিজস্ব স্বত্তা বিলুপ্ত হলেও প্রায় সমধর্মী অন্য ফেডারেশনের সঙ্গে একীভূত করা হয়েছে। প্যারা আরচ্যারিকে বাংলাদেশ আরচ্যারি ফেডারেশন, খিউকুশিন কারাতেকে বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশন, বাংলাদেশ ঘুড়ি অ্যাসোসিয়েশনকে বাংলাদেশ কান্ট্রি গেমস অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। খিউকুশিন কারাতে ও প্যারা আর্চারি অ্যাসোসিয়েশনের জন্ম গত দুই বছরের মধ্যে হলেও ঘুড়ি অ্যাসোসিয়েশন প্রায় দুই দশক আগে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। যদিও ঘুড়ি উৎসব জনপ্রিয়, তবু ঘুড়ি অ্যাসোসিয়েশনের কার্যক্রম ছিল অনেক দিন ধরেই নিষ্ক্রিয়। সেই মোতাবেক এবার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়।
জানা যায়, গত জাতীয় নির্বাচনের শেষ দিকে খিউকুশিন কারাতেকে আলাদা এসোসিয়েশনের স্বীকৃতি দেয় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। সাবেক শিক্ষামন্ত্রী দিপু মনির প্রভাবে এ অ্যাসোসিয়েশনের সৃষ্টি হয়েছিল। এ রকম নানা সময় নানা চাপ ও তদবিরে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ফেডারেশন, অ্যাসোসিয়েশনের জন্ম দেয়া হয় বলে জানানো হয়। জুজুৎসু, সেপাক টেকরো, থ্রোবল, বাশাআপ, মাউন্টেরিং,চুকবলের মতো অপ্রচলিত অনেক খেলাকেই অ্যাসোসিয়েশনের স্বীকৃতি দেয় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। প্রায় সমধর্মী খেলা তায়কোয়ান্দো, তায়কোয়ানডো, কারাতে ও মার্শাল আর্ট আলাদা আলাদা ফেডারেশন রয়েছে। ক্রিকেট ও ফুটবল ফেডারেশন ছাড়া প্রায় সব ফেডারেশনেই এখন অ্যাডহক কমিটি। এর মধ্যে ৪৭টির কমিটি ইতিমধ্যেই গঠন করা হয়েছে। তবে এখনো প্রকাশ হয়নি মহিলাদের ক্রীড়া সংস্থা ও শুটিং ফেডারেশনের কমিটি।
