
৭২ বছর পর আবারও বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে সুইজারল্যান্ড। ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর শেষ ম্যাচে ১২০ মিনিটের লড়াইয়ে গোলের দেখা না পেলেও টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে কলম্বিয়াকে হারিয়ে শেষ আট নিশ্চিত করেছে তারা। মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাতে কানাডার ভ্যাঙ্কুভারের বিসি প্লেস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত নির্ধারিত ৯০ ও অতিরিক্ত ৩০ মিনিট গোলশূণ্য থাকার পর ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। এরপর ভাগ্য নির্ধারণের টাইব্রেকারে স্নায়ুর লড়াইয়ে জয়ের হাসি হাসে সুইসরা। কোয়ার্টার ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দল আক্রমণাত্মক ফুটবল খেললেও গোলের দেখা পায়নি। প্রথমার্ধে বলের দখল ও সুযোগ তৈরিতে কিছুটা এগিয়ে ছিল কলম্বিয়া। ২১ মিনিটে গুস্তাভো পুয়ের্তার দূরপাল্লার জোরালো শট দারুণ দক্ষতায় ফিরিয়ে দেন সুইস গোলরক্ষক গ্রেগর কোবেল। এরপর ধীরে ধীরে ম্যাচে ফিরে আসে সুইজারল্যান্ড। ২৯ মিনিটে ফাবিয়ান রিডারের শট চমৎকারভাবে ঠেকান কলম্বিয়ার গোলরক্ষক কামিলো ভার্গাস। ৩৩ মিনিটে ড্যান এনদোয়ের শটও রুখে দেন তিনি। ফলে গোলশূন্য অবস্থায় বিরতিতে যায় দুই দল। দ্বিতীয়ার্ধে সুইজারল্যান্ড আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। ৫০ মিনিটে বক্সের ভেতরে ড্যান এনদোয়েকে ধরে টানার অভিযোগে পেনাল্টির আবেদন জানায় তারা। তবে ভিএআরে পরীক্ষা করে রেফারির ‘নো পেনাল্টি’ সিদ্ধান্তই বহাল রাখা হয়। ৫৩ মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে ফাবিয়ান রিডারের বাঁ পায়ের শট সাইড নেটে লাগে। এরপর ৬২ মিনিটে সুইজারল্যান্ডের রক্ষণভাগের ভুলে সুযোগ পেয়েও লক্ষ্যভ্রষ্ট শট নেন কলম্বিয়ার লুইস সুয়ারেজ। শেষ দিকে দুই দলই কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও গোলের দেখা পায়নি।
নির্ধারিত সময়ের পর অতিরিক্ত সময়েও আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে জমে ওঠে ম্যাচ। অতিরিক্ত সময়ের ৯৯ মিনিটে কর্নার থেকে জন লুকুমির শক্তিশালী হেড ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। ১০৪ মিনিটে সুইজারল্যান্ডের বদলি খেলোয়াড় জেকি আমদুনির শট দুর্দান্তভাবে ঠেকিয়ে দেন ভার্গাস। সবচেয়ে বড় সুযোগ আসে ১১৫ মিনিটে। সুইস অধিনায়ক গ্রানিত জাকার ভুলে বল হারালে জামিন্তন কাম্পাজ একা গোলরক্ষকের সামনে চলে যান। কিন্তু নিশ্চিত গোলের সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি, উড়িয়ে মারেন বারের ওপর দিয়ে। ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে।
টাইব্রেকারে প্রথমে গোল করেন কলম্বিয়ার হুয়ান কুইন্তেরো। জবাবে সফল হন জাকা। এরপর দাভিনসন সানচেজের শট ক্রসবারে লাগে। সুইজারল্যান্ডের আমদুনি গোল করলেও পরে ম্যানুয়েল আকাঞ্জি শট বারের ওপর দিয়ে মারায় সমতা ফেরে। চতুর্থ শটে কুচো হার্নান্দেজের নেওয়া পেনাল্টি ডানদিকে ঝাঁপিয়ে ঠেকিয়ে দেন গ্রেগর কোবেল। এরপর সেড্রিক ইত্তেন গোল করে সুইজারল্যান্ডকে এগিয়ে দেন। শেষ আশা হয়ে পঞ্চম শটে গোল করেন লুইস দিয়াজ। কিন্তু সুইজারল্যান্ডের শেষ শট নিতে এসে কোনো ভুল করেননি রুবিন ভার্গাস। তার সফল শটেই ৪-৩ ব্যবধানে টাইব্রেকার জিতে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করে সুইজারল্যান্ড।
১৯৫৪ সালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠল সুইসরা। শেষ আটে তাদের সামনে অপেক্ষা করছে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা। আগামী রোববার কানাসাসে বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টায় শেষ কোয়ার্টার ফাইনালে মাঠে নামবে দু’দল।
