২ উইকেট খুইয়ে প্রথম সেশন শেষ বাংলাদেশের

খেলা

কলম্বো টেস্টের প্রথম সেশনটা বেশ চাপেই কাটাতে হলো বাংলাদেশকে। দুটো উইকেট খোয়াল দলটা, এ সময় রানের চাকাও খুব বেশি সচল রাখতে পারল না দলটা। ২ উইকেটে ৭১ রান তুলে প্রথম দিনের মধ্যাহ্ন বিরতিতে গেছে সফরকারীরা।

প্রথম টেস্টের মতো এই টেস্টেও টস ভাগ্য বাংলাদেশকেই সঙ্গ দেয়। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত নেন ব্যাট করার সিদ্ধান্ত। অসুস্থতা কাটিয়ে এই ম্যাচে একাদশে ফেরেন মেহেদী হাসান মিরাজ, ফলে জায়গা ছেড়ে দিতে হয় জাকের আলী অনিককে। এই ম্যাচে চোটের কারণে খেলতে পারছেন না হাসান মাহমুদ, তার জায়গায় ২ বছর পর একাদশে ফিরেছেন এবাদত হোসেন।

এদিকে এনামুল হক বিজয়ের ওপর ভরসা রেখেছিল টিম ম্যানেজমেন্ট। তবে তিনি সে আস্থার প্রতিদান দিতে পারেননি। আগের টেস্টে দুই অঙ্ক ছুঁতে পারেননি তিনি। সে ব্যর্থতার বৃত্ত থেকে কলম্বো টেস্টেও বের হতে পারেননি তিনি। ইনিংসের শুরুতেই তিনি ক্যাচ দিয়েছিলেন উইকেটের পেছনে। সেটা কুশল মেন্ডিস তালুবন্দি করতে পারেননি। 

তবে শিগগিরই তাকে ইনকামিং ডেলিভারিতে পরাস্ত করেন আসিথা ফার্নান্দো। ১০ বল খেলে ০ রানে ফেরেন এনামুল। 

এনামুল হক বিজয়ের ফেরার পর বাংলাদেশের ওপর চেপে বসেছিল শ্রীলঙ্কা। দারুণ বোলিং হাত খুলতে দিচ্ছিল না বাংলাদেশের দুই ব্যাটারদের। নবম ওভারের শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের রান ছিল মোটে ৮।

এরপরি ধীরে ধীরে হাত খুলতে শুরু করেন মুমিনুল আর সাদমান ইসলাম। পরের সাত ওভারে রান উঠল ৩৫।

তবে সেটা বেশিক্ষণ চলতে পারল না। ইনিংসের ১৭তম ওভারে বোলিংয়ে পরিবর্তন আনেন অধিনায়ক ধনাঞ্জয়া ডি সিলভা, আক্রমণে আসেন নিজেই।

তার প্রথম বলেই খানিকটা ব্যাকফুটে গিয়ে কভার অঞ্চলে ঠেলে দিতে চেয়েছিলেন মুমিনুল। তবে বলটা কভারে ক্যাচ নেন অতিরিক্ত ফিল্ডার পবন রত্নায়েকে।

৩৯ বলে ২১ রান করে ফেরেন মুমিনুল। বাংলাদেশ তাদের দ্বিতীয় উইকেট খোয়ায় ৪৩ রানে।

এই ইনিংস খেলার পথেই টেস্ট রানের হিসেবে সাকিব আল হাসানকে ছাড়িয়ে যান মুমিনুল। কলম্বোতে মুমিনুল নামেন ৪৬০৩ রান নিয়ে। ৭১ টেস্টে সাকিব তুলেছেন ৪৬০৯ রান। সাকিবকে পেছনে ফেলতে মুমিনুলের অবশ্য ৬টি ইনিংস বেশি খেলতে হয়েছে। ৭৪ টেস্টে (কলম্বো টেস্টের প্রথম ইনিংস পর্যন্ত) মুমিনুলের রান ৪৬২৪।

এনামুল আর মুমিনুলের বিদায়ের পর অবশ্য আর কোনো ভুলচুক হতে দেননি সাদমান ইসলাম আর নাজমুল হোসেন শান্ত। সাদমান ফিফটি থেকে ৭ রানের দূরত্বে থেকে গেছেন মধ্যাহ্ন বিরতিতে। ওপাশে শান্ত অপরাজিত আছেন ৭ রানে। দুজনের তৃতীয় উইকেট জুটি থেকে এসেছে ২৮ রান। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *