সরকারি সহযোগিতা প্রস্তুত, কিন্তু নুরুল হক নুরের নিজের ইচ্ছা এখনও না; পরিবার নেবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত
ঢাকা, ৯ আগস্ট ২০২৫ — গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট নুরুল হক নুরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়ার সব প্রস্তুতি শেষ। পাসপোর্ট প্রক্রিয়াধীন, অর্থের ব্যবস্থা হয়েছে, এমনকি সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে অগ্রিম বুকিংয়ের প্রস্তুতিও নিয়েছে সরকার। কিন্তু এই মুহূর্তে নিজের ইচ্ছায় বিদেশ যাওয়ার কথা মানছেন না নুরুল হক নুর।
গণঅধিকার পরিষদ সূত্রে খবর৫২.কম-কে জানানো হয়, নুরের পরিবার সরকারের কাছে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসার জন্য আনুষ্ঠানিক আগ্রহ প্রকাশ করলেও, নিজে নুর এখনো “হ্যাঁ” বলেননি। তার এই অনাগ্রহের পেছনে রাজনৈতিক ও মানবিক কয়েকটি কারণ উঠে এসেছে।
কেন বিদেশে যেতে চাইছেন না নুর?
দলীয় নেতাকর্মীদের ভাষ্যমতে, নুরুল হক নুর দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার প্রতি আস্থা রাখতে চান। তিনি মনে করেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজে (ঢামেক) তার যথেষ্ট যত্ন হচ্ছে। এছাড়া, সামনে নির্বাচন তফসিল ঘোষণার সম্ভাবনা থাকায় বিদেশে গেলে দলের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হতে পারে। তিনি চান, চিকিৎসাধীন অবস্থাতেও নেতাকর্মীদের পরামর্শ দিতে পারবেন।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—তিনি এখন শঙ্কামুক্ত। আগের মতো নিরাপত্তার ঝুঁকি নেই বলে বিদেশে যাওয়ার জরুরিতা কমেছে।
ঢামেক কর্তৃপক্ষ: “অবস্থা স্থিতিশীল, উন্নতি হচ্ছে”
ঢামেকের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) সংবাদ সম্মেলনে জানান, নুরের মেমোরি লস হয়নি, মাথার রক্তক্ষরণ প্রায় বন্ধ হয়েছে। তার অবস্থা স্থিতিশীল এবং ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে।
তবে গতকাল রাত থেকে জ্বর ও সর্দি-কাশির লক্ষণ দেখা দিয়েছে। মেডিসিন বিভাগের প্রধান তাকে পরীক্ষা করেছেন এবং কিছু টেস্টের পরামর্শ দিয়েছেন। ফলাফল আসার পরই পরবর্তী কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
নাকের আঘাত, কিন্তু চোখে কোনো ক্ষতি নেই
ঢামেক কর্তৃপক্ষ জানায়, নুরের নাকের হাড়ে তিনটি ফ্র্যাকচার রয়েছে, তবে হাড়গুলো ডিসপ্লেস হয়নি। মাঝে মাঝে নাক দিয়ে রক্তপাত হচ্ছে, যা স্বাভাবিক। চোখে আঘাত থাকলেও সেখানে কোনো রক্তক্ষরণ বা দৃষ্টিশক্তির ক্ষতি হয়নি। চিকিৎসকরা বলছেন, সম্পূর্ণ সুস্থ হতে ৪-৬ সপ্তাহ লাগবে।
ছয় সদস্যের মেডিকেল বোর্ড পর্যবেক্ষণ করছে শারীরিক অবস্থা
নুরকে প্রথমে জরুরি বিভাগ, পরে আইসিইউতে রাখা হয়। এখন তিনি কেবিনে চিকিৎসাধীন। ছয় সদস্যের মেডিকেল বোর্ড প্রতিদিন তার অবস্থা মূল্যায়ন করছে। প্রয়োজনীয় সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসা চলছে নিয়মিত।
সরকারি সহযোগিতা ও পরিবারের ভূমিকা
অন্তর্বর্তী সরকারের স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ নুরের চিকিৎসার বিষয়ে সরাসরি খোঁজখবর নিচ্ছেন। গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক শাকিল উজ্জামান খবর৫২.কম-কে বলেন, “সরকারের সব স্তর থেকে আমরা সহযোগিতা পাচ্ছি। ঢামেক প্রশাসনও সর্বোচ্চ সেবা দিচ্ছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে পরিবার। আমরা যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত।”
পটভূমি: বিজয়নগরে হামলায় আহত
গত ২৯ আগস্ট রাজধানীর বিজয়নগরে জাতীয় পার্টি ও গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের পর আল রাজী টাওয়ারের সামনে হামলায় আহত হন নুরুল হক নুর। তার সঙ্গে আহত হয়েছিলেন অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী। তখন থেকেই তিনি ঢামেকে চিকিৎসাধীন।
শেষ কথা:
নুরুল হক নুর এখন শারীরিকভাবে স্থিতিশীল, মানসিকভাবে সচেতন। তিনি নিজেই বিদেশে যাওয়ার বিষয়টি এখন প্রশ্নে তুলেছেন। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে পরিবারের সঙ্গে পরামর্শ করে। সরকার ও চিকিৎসক দল সব বিকল্পের জন্য প্রস্তুত।
