নেপালে সোশ্যাল মিডিয়া নিষেধাজ্ঞা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভে ১৪ জন নিহত, কাঠমান্ডুতে জারি হলো কারফিউ
কাঠমান্ডু, ৮ আগস্ট ২০২৫ — সোশ্যাল মিডিয়া নিষেধাজ্ঞা এবং সরকারি দুর্নীতির বিরুদ্ধে জেন-জি নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভ নেপালে রক্তের নদী বয়ে গেল। সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) শুরু হওয়া শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ পুলিশের গুলিতে পরিণত হয়েছে ভয়াবহ রক্তপাতে। এখন পর্যন্ত ১৪ জন নিহত, শতাধিক আহত — এবং কাঠমান্ডুর বুকে জারি হয়েছে কারফিউ।
খবর৫২.কম কাঠমান্ডু পোস্টের প্রতিবেদন ও স্থানীয় সূত্রের ভিত্তিতে জানাচ্ছে— নিহতদের মধ্যে ৭ জন মারা গেছেন জাতীয় ট্রমা সেন্টারে, ৩ জন বানেশ্বরের এভারেস্ট হাসপাতালে, ২ জন সিভিল হাসপাতালে এবং আরও ২ জন মহারাজগঞ্জের কেএমসি ও ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয় টিচিং হাসপাতালে। কিন্তু এখনো তাদের পরিচয় নিশ্চিত হয়নি।
গুরুতর অবস্থায় অন্তত ১০ জন
ট্রমা সেন্টারের চিকিৎসক দীপেন্দ্র পান্ডে খবর৫২.কম-কে বলেন, “অন্তত ১০ জনের অবস্থা গুরুতর। মাথা ও বুকে গুলি লেগেছে। ২০ জনের বেশি চিকিৎসাধীন।” আর এভারেস্ট হাসপাতালের কর্মকর্তা অনিল অধিকারী জানান, “৫০ জনের বেশি আহত চিকিৎসাধীন, যার মধ্যে ৪ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।”
পুলিশের ব্যবহার: জলকামান, কাঁদানে গ্যাস, তাজা গুলি
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান, কাঁদানে গ্যাস এবং তাজা গুলি ব্যবহার করেছে। বিক্ষোভকারীরা পাল্টা ছুঁড়েছে গাছের ডাল, পানির বোতল, চিৎকার করেছে স্লোগান — “দুর্নীতি নিপাত যাক!”, “ইন্টারনেট বন্ধ করো না!”। কেউ কেউ পর্যন্ত পার্লামেন্ট প্রাঙ্গণে ঢুকে পড়েছিল।
কারফিউ জারি, শহর নিস্তব্ধ
কাঠমান্ডু জেলা প্রশাসন শহরের বিভিন্ন স্থানে কারফিউ জারি করেছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, “আরও অস্থিরতা রোধ এবং সংবেদনশীল সরকারি স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ।” কিন্তু পথে নেমেছে হাজার হাজার তরুণ — তাদের কাছে কারফিউ শব্দটাই অপ্রাসঙ্গিক।
প্রতিবাদের মূল কারণ: ফেসবুক থেকে স্ন্যাপচ্যাট — ২৬টি প্ল্যাটফর্মে নিষেধাজ্ঞা
বিক্ষোভকারীরা প্রতিবাদ করছে সরকারের সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে, যেখানে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ, ইউটিউব, স্ন্যাপচ্যাট সহ ২৬টি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। সরকারের দাবি, “অনিবন্ধিত প্ল্যাটফর্মগুলো দেশের নিরাপত্তার জন্য হুমকি।” কিন্তু জনতা বলছে — “এটা আমাদের কণ্ঠস্বর কেড়ে নেওয়া।”
বিক্ষোভ অব্যাহত — আওয়াজ কখনো থামবে না
যদিও পুলিশ আগে থেকেই ব্যারিকেড তৈরি করেছিল, বিক্ষোভকারীরা তা ভেঙে এগিয়ে গেছে। কাঠমান্ডু ছাড়াও পোখরা, বীরগঞ্জ, ভরতপুরসহ নেপালের প্রধান শহরগুলোতে বিক্ষোভ অব্যাহত। মুখোশ পরা তরুণরা স্লোগান দিচ্ছে — “তোমরা গুলি চালাও, আমরা আওয়াজ ছাড়ব না!”
শেষ কথা:
নেপালের রাজপথ আজ রক্তে লাল। কিন্তু তরুণদের আওয়াজ আরও উঁচু। সরকার চাইলে ইন্টারনেট বন্ধ করতে পারে, কিন্তু মানুষের মুখ বন্ধ করতে পারবে না। নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা — আহতদের প্রতি শুভেচ্ছা। খবর৫২.কম আপনাদের সাথে থাকবে প্রতিটি আপডেটে।
