লোভাছড়া পাথর লুটে শতকোটি টাকার মালিক তমিজ, রয়েছে বিলাসবহুল বাড়ি ও গোপন কক্ষ

শিরোনাম সিলেটের খবর

খবর ৫২ ডেস্ক

প্রকাশ : ২৭ আগস্ট ২০২৫, বুধবার

সিলেট: লোভাছড়া পাথর কোয়ারির তীরে গড়ে উঠেছে বিলাসবহুল প্রাসাদসম বাড়ি, যার মালিক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান তমিজ উদ্দিন। পাথর লুট এবং চোরাচালানের মাধ্যমে তিনি এখন শতকোটি টাকার মালিক। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের সময় তিনি বাড়ির গোপন কক্ষে আশ্রয় নেন।

স্থানীয়দের মতে, একসময় সাধারণ ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত তমিজ, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ভাগ্য পরিবর্তন করেন। কানাইঘাট উপজেলা আওয়ামী লীগের অর্থ বিষয়ক সম্পাদক ও ইউপি সভাপতি হিসেবে তিনি পরিচিত। সাবেক এসআই আকবর হোসেনের পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় আলোচিত ডোনা সীমান্তও তার নিয়ন্ত্রণে। এই এলাকা দিয়ে চোরাচালানের মাধ্যমে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন।

পাথর লুট ও বিপুল সম্পদের পাহাড়

লোভাছড়ার স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ২০১৫-১৬ সাল থেকে তমিজের নেতৃত্বে পাথর লুট শুরু হয়। তাদের দাবি, ইজারার আগে ও পরে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার পাথর লুট হয়েছে, যার বড় অংশই গেছে তমিজ ও তার ভাইদের পকেটে। যারা এর প্রতিবাদ করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়েছে। তমিজ নিজেও অন্তত ৬টি মামলার আসামি হলেও টাকার জোরে পার পেয়েছেন।

স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, তমিজের শতকোটি টাকার সম্পদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

  • লোভাছড়ায় ৭-৮ কোটি টাকা মূল্যের প্রাসাদসম বাড়ি
  • সিলেট নগরীতে ১০-১২ কোটি টাকা মূল্যের পাঁচতলা ‘নূরজাহান হোটেল ও রেস্টুরেন্ট’
  • ৪ কোটি টাকার দুটি ভলগেট, ৭ কোটি টাকার ১৫টি স্টিলবডি নৌকা, এবং প্রায় ২ কোটি টাকার ১৮টি পাথরবাহী গাড়ি
  • আড়াই কোটি টাকার ৫টি ফেলুডার এবং ৩ কোটি টাকার ৪টি এক্সক্যাভেটর
  • মোলাগুল বাজারে ৫ কোটি টাকা মূল্যের ৩০টি দোকান এবং আরও বিভিন্ন বাজারে মোট প্রায় ৮ কোটি টাকার দোকান
  • নগদ অর্থ ও অন্যান্য সম্পত্তি ছাড়াও তার ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকার ভূমি রয়েছে সাউদগ্রাম, তেরআলী, বড়গ্রাম ও লোভা কোয়ারিতে।

আত্মগোপনে তমিজ, ক্ষোভ প্রকাশে জনপ্রতিনিধিরা

গণঅভ্যুত্থানের পর তমিজের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা দায়ের করা হলেও তিনি প্রকাশ্যে চলাফেরা করছিলেন। তবে, তার বিরুদ্ধে ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিরা প্রতিবাদ শুরু করলে এবং তাকে ইউনিয়ন পরিষদে অবরুদ্ধ করলে তিনি আত্মগোপনে চলে যান। গত এক সপ্তাহ ধরে তার কোনো খোঁজ নেই।

ইউপি সদস্য নাজিম উদ্দিন ও সাবেক সদস্য মোস্তাক আহমদ জানান, পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করছে না, যার কারণে তারা বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিয়েছেন। কানাইঘাট থানার ওসি আব্দুল আউয়াল জানান, তমিজকে গ্রেপ্তারের জন্য একাধিকবার অভিযান চালানো হয়েছে এবং পুলিশ তাকে খুঁজে বের করতে সক্রিয় রয়েছে।

সম্প্রতি নিলামে বিক্রি হওয়া পাথরের বাণিজ্য নিয়েও তমিজের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। মেসার্স পিয়াস নামের একটি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী কামরুল হাসান তুহিন জানান, তমিজ চেয়ারম্যান তাদের অংশীদার হলেও হিসাব না দিয়ে অনেক পাথর বিক্রি করে দিয়েছেন। এতে তারা প্রায় ১৫ কোটি টাকা ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

তবে, এক মাস আগে চেয়ারম্যান তমিজ তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছিলেন, তিনি ব্যবসা করে এই সম্পদ অর্জন করেছেন এবং একটি পক্ষ তাকে হেনস্তা করার জন্য অপপ্রচার চালাচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *