রোহিঙ্গা ঢলের আট বছর: সংকট বাড়ছে, সহযোগিতা কমছে

প্রচ্ছদ বাংলাদেশ

খবর ৫২ ডেস্ক:

প্রকাশ: ২৫ আগস্ট, ২০২৫,

আজ থেকে আট বছর আগে, ২৫ আগস্ট, ২০১৭ তারিখে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছিল প্রায় সাড়ে ৭ লাখ রোহিঙ্গা। আগে থেকে অবস্থান করা এবং জন্মহার বৃদ্ধির কারণে বর্তমানে বাংলাদেশে এই জনগোষ্ঠীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১১ লাখে। দীর্ঘ আট বছরেও একজন রোহিঙ্গাকেও প্রত্যাবাসন চুক্তির আওতায় মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়নি, এবং নিকট ভবিষ্যতে এমন কোনো সম্ভাবনাও দেখা যাচ্ছে না।

২০১৭ সালে প্রত্যাবাসন চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও রাখাইনের বর্তমান পরিস্থিতির কারণে রোহিঙ্গারা ফিরে যেতে রাজি নয়। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও তাদের জোরপূর্বক ফেরত পাঠানোর বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে। সংকট যখন তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে, তখন উল্টো আন্তর্জাতিক সহযোগিতা কমতে শুরু করেছে। ইন্টার সেক্টর কো-অর্ডিনেশন গ্রুপের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে রোহিঙ্গা সংকটের জন্য ৯৩ কোটি ৪৫ লাখ মার্কিন ডলার চাওয়া হলেও, গত ১১ আগস্ট পর্যন্ত মাত্র ৩৩ কোটি ২ লাখ ডলার সহায়তা মিলেছে, যা প্রত্যাশিত তহবিলের মাত্র ৩৫ শতাংশ।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইউক্রেন যুদ্ধ, গাজা-ইসরায়েল সংঘাত এবং আফ্রিকার রাজনৈতিক অস্থিরতার মতো বৈশ্বিক সংকটগুলোর কারণে আন্তর্জাতিক মনোযোগ এবং তহবিল অন্য দিকে সরে গেছে। একই সঙ্গে, রোহিঙ্গা সংকট একটি পুরনো ইস্যু হওয়ায় দাতা দেশগুলোর কাছে এর গুরুত্ব কমছে। এতে সরাসরি প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের জীবনযাত্রার মান, শিক্ষা ও অন্যান্য মৌলিক সুযোগ-সুবিধার ওপর।

২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর মিয়ানমারে রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও অবনতি হয়েছে। দেশটির সেনাবাহিনী দেশব্যাপী নৃশংস অভিযান চালাচ্ছে, যার ফলে ৩৩ লাখেরও বেশি মানুষ অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছে। সম্প্রতি আরাকান আর্মির সঙ্গে সংঘাত বেড়ে যাওয়ায় রাখাইনে রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক বিচার প্রক্রিয়া চলমান থাকলেও তা খুব ধীরগতিতে এগোচ্ছে। মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক আদালত এবং অন্যান্য দেশে মামলা চলছে। গত জুলাই মাসে কঙ্গো, বেলজিয়াম, স্লোভেনিয়া ও আয়ারল্যান্ড এই মামলায় মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে হস্তক্ষেপের অনুমতি পেয়েছে। এর আগে, গত ফেব্রুয়ারিতে আর্জেন্টিনার একটি আদালত মিয়ানমারের ২৫ জন জেনারেলের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তর এই সংকটকে ‘স্থায়ী দুর্দশা’ হিসেবে উল্লেখ করেছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে রোহিঙ্গাদের জন্য সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে। বাংলাদেশ সরকার বারবার বলছে, এই সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান হলো রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *