যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতি আরও কঠোর, যাচাই করা হবে ‘আমেরিকা বিরোধী’ মনোভাব

আন্তর্জাতিক শিরোনাম

খবর ৫২ ডেস্ক:

প্রকাশ: ২১ আগস্ট ২০২৫

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস ও কাজের ভিসার আবেদনকারীদের জন্য অভিবাসন নীতি আরও কঠোর হচ্ছে। ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস) মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এখন থেকে আবেদনকারীদের মধ্যে ‘আমেরিকা বিরোধী’ মনোভাব আছে কিনা, তা যাচাই করা হবে। এই যাচাই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমও কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন অভিবাসন আইনজীবী ও অধিকারকর্মীরা। তারা এটিকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ এবং ‘ম্যাকার্থিজম’-এর সঙ্গে তুলনা করেছেন। এই খবর দিয়েছে সিএনএন।


নতুন নীতি ও তার প্রভাব

ইউএসসিআইএস-এর নতুন নীতি অনুযায়ী, অভিবাসন কর্মকর্তারা এখন থেকে ভিসা আবেদনকারীদের মধ্যে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বা ইহুদি বিদ্বেষী কার্যকলাপের কোনো প্রমাণ আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখবেন। ট্রাম্প প্রশাসনের পূর্ববর্তী একটি সিদ্ধান্তের সম্প্রসারিত রূপ হিসেবে এই নীতি চালু করা হয়েছে। গত জুনে প্রথমবার অভিবাসীদের স্ক্রিনিংয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যাচাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল।

সংস্থাটির মুখপাত্র ম্যাথিউ ট্র্যাজেসার এক বিজ্ঞপ্তিতে জানান, যারা এই দেশকে ঘৃণা করে এবং মার্কিন-বিরোধী মতাদর্শ প্রচার করে, তাদের আমেরিকার সুবিধা দেওয়া উচিত নয়। তিনি বলেন, ইউএসসিআইএস মার্কিন-বিরোধিতা দূর করতে এবং কঠোর স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

সমালোচনার কারণ

তবে এই নীতিতে ‘মার্কিন-বিরোধিতার’ কোনো নির্দিষ্ট সংজ্ঞা দেওয়া হয়নি, যা ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। এতে শুধু বলা হয়েছে যে এর মধ্যে ‘ইহুদি বিদ্বেষী সন্ত্রাসবাদ, ইহুদি-বিরোধী সন্ত্রাসী সংগঠন এবং ইহুদি-বিরোধী মতাদর্শ’ অন্তর্ভুক্ত। এর উদাহরণ হিসেবে ১৯৫২ সালের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাশনালিটি অ্যাক্টের একটি ধারা উল্লেখ করা হয়েছে, যা কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য এবং যারা বলপ্রয়োগের মাধ্যমে মার্কিন সরকারকে উৎখাত করতে চায়, তাদের নাগরিকত্ব নিষিদ্ধ করে।

অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘মার্কিন-বিরোধিতা’-এর মতো একটি অস্পষ্ট শব্দের ব্যবহার অভিবাসন কর্মকর্তাদের হাতে সীমাহীন ক্ষমতা তুলে দেবে। এর ফলে সামান্যতম সন্দেহের ভিত্তিতেও আবেদন বাতিল করার সুযোগ তৈরি হবে। আমেরিকান ইমিগ্রেশন কাউন্সিলের জ্যেষ্ঠ ফেলো অ্যারন রেইচলিন-মেলনিক এই পদক্ষেপকে ১৯৫০-এর দশকে তৎকালীন সরকারের ‘রেড স্কেয়ার’-এর সঙ্গে তুলনা করেছেন।

এই কঠোর নীতির ফলে অভিবাসী এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ আরও কঠিন হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। এর আগে, স্টেট ডিপার্টমেন্ট চলতি বছর ৬,০০০ এরও বেশি শিক্ষার্থীর ভিসা বাতিল করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই নীতি বিশ্বজুড়ে মেধাবী শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীদের যুক্তরাষ্ট্রে আসা থেকে নিরুৎসাহিত করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *