ভারতের বিমান বিধ্বস্ত: ‘ভুল মরদেহ’ পাওয়ার অভিযোগ দুই ব্রিটিশ পরিবারের

আন্তর্জাতিক

ভারতের আহমেদাবাদে ঘটে যাওয়া এয়ার ইন্ডিয়ার ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনার পর নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। দুর্ঘটনায় নিহত দুই ব্রিটিশ নাগরিকের পরিবার অভিযোগ করেছে, তারা নিজেদের স্বজনের মরদেহের বদলে ‘ভুল মরদেহ’ পেয়েছেন।

ব্রিটিশ পরিবারগুলোর আইনজীবী জেমস হিলি জানান, যুক্তরাজ্যে পাঠানো দুটি কফিনে থাকা মরদেহের ডিএনএ পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া গেছে—সেগুলো সংশ্লিষ্ট পরিবারের সদস্যদের নয়। এতে তারা চরমভাবে হতাশ ও ক্ষুব্ধ।

উল্লেখ্য, গত ১২ জুন আহমেদাবাদ থেকে লন্ডনের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া এয়ার ইন্ডিয়া ফ্লাইট এআই১৭১ উড্ডয়নের কিছুক্ষণের মধ্যেই মেঘানিনগরের বিজে মেডিকেল কলেজ আবাসিক এলাকায় বিধ্বস্ত হয়। বোইং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার মডেলের এই বিমানে থাকা ২৪২ জন যাত্রী ও ক্রুর মধ্যে শুধু একজনই প্রাণে বেঁচে যান।

জেমস হিলির বরাতে জানা যায়, দুর্ঘটনার পর অন্তত ১২ থেকে ১৩টি মরদেহ যুক্তরাজ্যে পাঠানো হয়। সেখান থেকে পাওয়া দুটির ডিএনএ মিলে না সংশ্লিষ্ট ব্রিটিশ নাগরিকদের পরিবারের সঙ্গে।

এ বিষয়ে টাটা গ্রুপের মালিকানাধীন এয়ার ইন্ডিয়া জানিয়েছে, বিষয়টি তারা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে। তবে এ পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য দেওয়া হয়নি।

এর আগে দুর্ঘটনায় নিহত ব্রিটিশ নাগরিকদের পরিবারগুলো ক্ষতিপূরণ দাবির ফর্ম নিয়েও প্রশ্ন তোলে। তাদের অভিযোগ, ফর্মে জটিল আইনি ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে, যেগুলোর যথাযথ ব্যাখ্যা না থাকায় সঠিকভাবে পূরণ করা দুরূহ হয়ে পড়ছে। এতে করে ভবিষ্যতে ক্ষতিপূরণ দিতে অস্বীকৃতি জানাতে পারে এয়ার ইন্ডিয়া—এমন আশঙ্কাও তারা প্রকাশ করে।

তবে এসব অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে এয়ার ইন্ডিয়া। এক বিবৃতিতে তারা জানায়, দুর্ঘটনার পরপরই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে আর্থিক সহায়তা দিতে অগ্রিম ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, টাটা গ্রুপ নিহতদের পরিবারকে ১ কোটি রুপি (প্রায় ৮৫ হাজার পাউন্ড) ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা দেয়। এছাড়া তাৎক্ষণিক সহায়তা হিসেবে ২৫ লাখ রুপি (প্রায় ২১,৫০০ পাউন্ড) দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেয় এয়ার ইন্ডিয়া।

এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত ব্রিটিশ পরিবার দুটি তাদের স্বজনদের প্রকৃত মরদেহ শনাক্ত করার পাশাপাশি স্বচ্ছ তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *