স্থগিত হয়নি টিউলিপের ফ্ল্যাট জালিয়াতির মামলা

আন্তর্জাতিক যুক্তরাজ্য

ফ্ল্যাট জালিয়াতির মামলায় হাইকোর্ট থেকে কোনো স্থগিতাদেশ পাননি ভারত পালিয়ে যাওয়া শেখ হাসিনার ভাগ্নি টিউলিপ সিদ্দিক। তবে মামলার সহযোগী আসামি অ্যাডভোকেট শাহ খসরুজ্জামানের অংশটি স্থগিত করা হয়েছে। এ আদেশ টিউলিপ সিদ্দিকসহ অন্য আসামিদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুল আজিজ খান।

তবে তার বরাত দিয়ে কিছু সংবাদমাধ্যমে টিউলিপ সিদ্দিকের মামলায় স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে—এমন বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে।আজ সোমবার বিকেলে এক ব্রিফিংয়ে দুদকের মহাপরিচালক মো. আকতার হোসেনও বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশের অভিযোগ তুলে বিষয়টি স্পষ্ট করেন।

এর আগে দুদকের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আজিজ খান জানান, শাহ খসরুজ্জামান ছিলেন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) সহকারী আইন উপদেষ্টা। তিনি হাইকোর্টে মামলাটি স্থগিত করার আবেদন করেছিলেন। শুনানি শেষে গত ৮ জুলাই বিচারপতি মোহাম্মদ আলীর হাইকোর্ট বেঞ্চ শুধুমাত্র আবেদনকারীর অংশে স্থগিতাদেশ দেন। একইসঙ্গে শাহ খসরুজ্জামানকে কেন মামলার দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে না, সে মর্মে তিন মাসের রুল জারি করেন আদালত। রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে।

তিনি আরও জানান, দুদক ইতোমধ্যে হাইকোর্টের ওই স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে আপিল করেছে। এই আদেশ কোনোভাবেই টিউলিপ সিদ্দিক কিংবা মামলার অন্য আসামিদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয় এবং তারা এর সুফলও পাবেন না।

অ্যাডভোকেট এম এ আজিজ খান বলেন, মামলার অন্যতম আসামি শাহ খসরুজ্জামান রাজউকের সহকারী আইন উপদেষ্টা ছিলেন। টিউলিপ সিদ্দিকের নামে যেসব প্লট বরাদ্দ হয়েছে, তা বরাদ্দ দেওয়ার বিষয়ে তিনি মতামত দিয়েছিলেন বলেই মামলায় অভিযুক্ত হয়েছেন। সেই কারণে তিনি আদালতের কাছে মামলাটি বাতিলের আবেদন করেন।

তিনি বলেন, যেহেতু এটি কেবল একটি এফআইআর, তদন্ত এখনো চলমান, তাই আমরা আদালতকে জানিয়েছি—এফআইআর বাতিল বা তদন্ত বন্ধ করা যায় না। একজনের জন্য দেওয়া স্থগিতাদেশের সুফল অন্য কেউ পাবেন না এবং তদন্তও বাধাগ্রস্ত হবে না।

এদিকে, দুদক মহাপরিচালক মো. আকতার হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, একজন সহযোগী আসামির পক্ষে হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ এসেছে। এই আদেশ টিউলিপ সিদ্দিক বা অন্য আসামিদের জন্য প্রযোজ্য নয়। দুদকের আইনজীবীর বক্তব্যকে কেন্দ্র করে কিছু সংবাদমাধ্যম বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশ করেছে। আজকের ব্রিফিংয়ে বিষয়টি পরিষ্কার করা হয়েছে। সেই স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধেও আপিল বিভাগে আবেদন করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ১৫ এপ্রিল টিউলিপ সিদ্দিকসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে একটি মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন। এজাহারে রাজউকের সাবেক সহকারী আইন উপদেষ্টা সরদার মোশারফ হোসেনকেও আসামি করা হয়।

অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে কোনো টাকা পরিশোধ না করেই অবৈধভাবে ঢাকার গুলশানে ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের একটি ফ্ল্যাট দখল করে রেজিস্ট্রি করে নেন।

সরকারের কাছ থেকে ইজারা নেওয়া জমিতে জালজালিয়াতির মাধ্যমে ভবন নির্মাণ করে ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেড। ওই ভবন থেকেই অবৈধভাবে ফ্ল্যাট দখল করেন টিউলিপ সিদ্দিক।

মামলাটি দায়ের করেন দুদকের উপপরিচালক মো. মনিরুল ইসলাম। তদন্ত টিমে আরও ছিলেন সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া, মুবাশ্বিরা আতিয়া তমা, এস এম রাশেদুল হাসান, এ কে এম মর্তুজা আলী সাগর, মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম ও উপসহকারী পরিচালক মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *