
সোমবারের সকালে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল শ্রীনগর। শহিদদের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানানো নিয়ে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয়েছে অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লার। শেষ পর্যন্ত অবশ্য শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেছেন তিনি। জানিয়েছেন বহু চেষ্টা করেও মোদি সরকার বাধা দিতে পারেনি তাকে।
১৯৩১ সালের ১৩ জুলাই মহারাজা হরি সিং ডোগরার বাহিনীর হাতে নিহত হন কাশ্মীরি বিক্ষোভকারীরা। তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আবদুল্লাহ গিয়েছিলেন স্মৃতিসৌধে। জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী এবং শীর্ষস্থানীয় নেতাদের শহিদদের সমাধিস্থল বা ‘মাজার-ই-শুহাদা’ পরিদর্শন করতে বাধা দেয় বলে পুলিশ, এমনটাই অভিযোগ ছিল।
আরও অভিযোগ, রবিবার ওমর সহ কাশ্মীরের অন্যান্য নেতাদের বন্দি করে রেখেছিল মোদি সরকার। সোমবার সমাধিস্থলে যাওয়ার সময় পুলিশি বাধার সম্মুখীন হতে হয় তাদের। এই গোটা বিষয়টি এক্স হ্যান্ডেলে শেয়ার করেন জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী। এবার এই নিয়ে মুখ খুললেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জানালেন এই ঘটনা অত্যন্ত লজ্জাজনক।
ওমর আবদুল্লা বলেছিলেন, “ওদের নির্লজ্জতা দেখুন। আজও ওরা আমাদের থামানোর চেষ্টা করেছিলেন। আমরা নওহাটা চকে গাড়ি দাঁড় করিয়েছিলাম। ওরা আমাদের সামনে একটি বাঙ্কার রেখে আমাদের মারধর করার চেষ্টা করেছিলেন। এই পোশাক পরা পুলিশ সদস্যরা মাঝে মাঝে আইন ভুলে যান। আমি ওদের জিজ্ঞাসা করতে চাই, আজ কোন আইনের অধীনে ওরা আমাদের থামানোর চেষ্টা করেছিলেন? নিষেধাজ্ঞাগুলি গতকালের জন্য ছিল। ওরা বলেন যে এটি একটি স্বাধীন দেশ, কিন্তু কখনও কখনও মনে করেন আমরা ওদের দাস। আমরা কারও দাস নই। আমরা যদি দাস হই, তবে আমরা জনগণের দাস।
ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা উপত্যকার নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে বলেন, “ওরা আমাদের থামানোর চেষ্টা করেছিলেন, আমাদের পতাকা ছিঁড়ে ফেলার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু তাদের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। আমরা এসে ফাতিহা পাঠ করেছি। ১৩ জুলাইয়ের হত্যাকাণ্ড আমাদের জালিয়ানওয়ালাবাগ। যারা তাদের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন তারা ব্রিটিশদের বিরুদ্ধেই করেছিলেন। কাশ্মীর ব্রিটিশ আধিপত্যের অধীনে শাসিত হচ্ছিল। কতই না দুঃখের বিষয় যে, ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে সকল রূপে লড়াই করা প্রকৃত বীরদের আজ কেবল মুসলিম হওয়ার কারণে খলনায়ক হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। আজ আমাদের তাদের শ্রদ্ধা নিবেদনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হতে পারে। আমরা তাদের আত্মত্যাগ ভুলব না।”
এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, ‘‘শহিদদের সমাধিতে যাওয়ায় ভুল কোথায়? এটা শুধু দুর্ভাগ্যজনক নয়, এক জন নাগরিকের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এক জন নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে যা হয়েছে, তা গ্রহণযোগ্য নয়, মর্মান্তিক, লজ্জাজনক।’’ এই প্রসঙ্গে উল্লেখ্য, গত সপ্তাহেই নবান্নে এসে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করেন ওমর। তারা দুজনেই বঙ্গবাসীকে কাশ্মীর ভ্রমণের জন্য উৎসাহিত করেছিলেন।
