খবর ৫২ ডেস্ক:
প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৫

শুল্ক জটিলতা কেটে যাওয়ায় হিলি স্থলবন্দরসহ দেশের বিভিন্ন বন্দর দিয়ে ভারত থেকে আমদানি করা চাল খালাস শুরু হয়েছে। এতদিন শতাধিক ট্রাকে প্রায় চার হাজার মেট্রিক টন চাল আটকে ছিল, যা মঙ্গলবার দুপুর থেকে খালাস হচ্ছে। তা সত্ত্বেও দেশের বাজারে চালের দাম কমছে না, বরং চিকন চালের দাম বস্তাপ্রতি ৩০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী বাচ্চু মিয়া এবং তেজগাঁওয়ের হাজী মো. আবু ওসমান জানান, মিল মালিকরা গত সোমবার থেকে নতুন করে চালের দাম বাড়িয়েছেন। বাবুবাজারের ব্যবসায়ী আমজাদ হোসেন বলেন, খুলনার মজুমদার এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের আকবরের মতো কিছু প্রভাবশালী আমদানিকারক গুদামে চাল মজুদ করে রাখেন এবং আমদানির অনুমতি বন্ধ হয়ে গেলে বাড়তি দামে তা বাজারে ছাড়েন। তাই সরকারের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।
হিলি স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল বলেন, শুল্কমুক্ত আমদানির পরিপত্র কার্যকর হওয়ার পর আমদানিকারকরা চাল খালাস শুরু করেছেন। বর্তমানে ভারতের প্রায় ২০০ থেকে ২৫০টি চালবোঝাই ট্রাক বাংলাদেশে প্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে।
সরকার দেশের বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক এবং দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে ২৪২ জন আমদানিকারককে ৫ লাখ টন চাল আমদানির অনুমতি দিয়েছে। এর মধ্যে সিদ্ধ চাল ৪ লাখ ৬১ হাজার টন এবং আতপ চাল ৩৯ হাজার টন। আমদানিকারকরা জানিয়েছেন, এই চাল বাজারে এলে সরু জাতের চালের দাম ৬৭-৭০ টাকা এবং মোটা চালের দাম ৫০-৫২ টাকার মধ্যে থাকতে পারে।
তবে, ভারতের সংবাদমাধ্যম ইকোনমিক টাইমস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের শুল্ক প্রত্যাহারের ঘোষণার পর ভারতে বিভিন্ন ধরনের চালের দাম ১৪% পর্যন্ত বেড়েছে। স্বর্ণা চালের দাম প্রতি কেজি ৩৪ রুপি থেকে বেড়ে ৩৯ রুপি, মিনিকেট ৪৯ রুপি থেকে ৫৫ রুপি, রত্না ৩৬-৩৭ রুপি থেকে ৪১-৪২ রুপি এবং সোনা মসুরি ৫২ রুপি থেকে ৫৬ রুপি হয়েছে।
ভারতের চাল রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান রাইসভিলার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুরজ আগরওয়াল জানান, শুল্ক প্রত্যাহারের ঘোষণার পর সেদিন রাত থেকেই চালের ট্রাক বাংলাদেশে প্রবেশ করতে শুরু করে। পশ্চিমবঙ্গ, উত্তরপ্রদেশ এবং দক্ষিণ ভারতের ব্যবসায়ীরা আগে থেকেই এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে অবহিত থাকায় তারা সীমান্ত গুদামে চাল প্রস্তুত রেখেছিলেন।
২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশে চালের দাম ১৬% বৃদ্ধি পেয়েছে এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে ১৩ লাখ টন চাল আমদানি করতে হয়েছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকার পুনরায় শুল্কমুক্ত চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
