খবর ৫২ ডেস্ক:

প্রকৃতির প্রতি যত্নশীল না হলে বাংলাদেশের সমৃদ্ধ মৎস্য সম্পদ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, মাছ প্রকৃতির এক অমূল্য উপহার, যা কোনো কারখানায় তৈরি হয় না, বরং আল্লাহর দান।
সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, সরকারি জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা, মৎস্যচাষী, উদ্যোক্তা এবং গবেষকরা উপস্থিত ছিলেন।
ড. ইউনূস সতর্ক করে বলেন, “আমরা এতটাই নির্দয় হয়ে পড়েছি যে, একদিন মাছও হয়তো আমাদের কপাল থেকে হারিয়ে যাবে।” তিনি উল্লেখ করেন, প্রকৃতিকে আঘাত করলে আগামী প্রজন্ম খাদ্য নিরাপত্তা ও জীবিকা থেকে বঞ্চিত হবে।
নদীর প্রতি মানুষের নির্দয় আচরণের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “আমরা নদী শাসনের কথা বলি, কিন্তু নদী পালনের কথা বলি না। আমরা তাকে শাসন করতে চাই এবং শাসনের নামে তার প্রতি যত নির্দয় হওয়া যায়, তা করছি। বর্জ্য তো নদীতে দিচ্ছি। নদী-নালা ও জলাশয়ে বর্জ্য ফেলছি, বিষাক্ত রাসায়নিক ঢুকিয়ে দিচ্ছি। পানিই যদি না থাকে, মাছ কোথা থেকে আসবে?”
প্রধান উপদেষ্টা গভীর সমুদ্রের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এটি কেবল বেশি মাছ ধরার বিষয় নয়, বরং একটি নতুন শিল্প গড়ে তোলার সুযোগ। এ জন্য গবেষণা, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে এই বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন।
অবৈধ জাল ব্যবহার এবং নির্বিচার মাছ ধরাকে তিনি ‘প্রকৃতির প্রতি নির্মমতা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। এটি কেবল সরকারের নয়, বরং সব নাগরিকের দায়িত্ব বলেও তিনি মনে করিয়ে দেন।
ড. ইউনূস বলেন, মৎস্য খাতে সম্ভাবনা থাকলেও ‘দুর্ভাবনাও’ আছে। এই শিল্পকে টেকসই করতে তিনি পরিবেশবান্ধব চাষাবাদ এবং তরুণ প্রজন্মের অংশগ্রহণকে জরুরি বলে মনে করেন।
অনুষ্ঠানে মৎস্য খাতে বিশেষ অবদানের জন্য নয়টি ক্ষেত্রে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে জাতীয় মৎস্য পদক দেওয়া হয়। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার এবং মন্ত্রণালয়ের রুটিন দায়িত্বে নিয়োজিত সচিব মো. তোফাজ্জেল হোসেনও বক্তব্য দেন।
এবারের মৎস্য সপ্তাহের মূল প্রতিপাদ্য হলো: “অভয়াশ্রম গড়ে তুলি, দেশি মাছে দেশ ভরি”। এই সপ্তাহে প্রদর্শনী, কর্মশালা ও আলোচনা সভার মাধ্যমে মাছ চাষের আধুনিক প্রযুক্তি, রক্ষণাবেক্ষণ ও বাজারজাতকরণ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো হবে।
