নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে রাজবাড়ীতে মা ইলিশ শিকার, অভিযানে ঢিলেঢালা ভাব

বাংলাদেশ

৮ অক্টোবর, ২০২৫

রাজবাড়ী: সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে রাজবাড়ীর পদ্মা নদীর বিভিন্ন স্থানে অবাধে মা ইলিশ শিকার চলছে। বুধবার দুপুরে সদর উপজেলার মিজানপুর ইউনিয়নের কালিতলা ও মহাদেবপুর এলাকার পদ্মা নদীতে গিয়ে এমন চিত্র দেখা যায়।

২২ দিনের নিষেধাজ্ঞার সময় সব রকমের ইলিশ সংরক্ষণ, আহরণ, পরিবহন, বাজারজাতকরণ ও মজুদকরণ নিষিদ্ধ থাকলেও শুধু মিজানপুরই নয়, বরাট ইউনিয়নের উড়াকান্দা ও অন্তরমোড়সহ পদ্মা নদীর কয়েকটি পয়েন্টে চলছে ইলিশ ধরার মহোৎসব।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, মৎস্য অধিদপ্তরের এবারের অভিযান চলছে ঢিলেঢালাভাবে। অভিযানের আগে তেমন কোনো প্রচার-প্রচারণা বা জেলেদের সাথে সভা-সেমিনার না করায় জেলেরা সাহস করে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে নদীতে ইলিশ শিকারে নামছে।

বুধবার দুপুরে কালিতলা এলাকায় মৎস্য দপ্তরের একটি অভিযান টিমের ট্রলার নদীর পাড়ে ভিড়ানো অবস্থায় পাওয়া যায়। সদর উপজেলা মৎস্য সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মোস্তফা কামালসহ চারজন সেই ট্রলারে বসে গল্প করছেন। অথচ মাত্র ৫০০ মিটার দূরেই মহাদেবপুর এলাকায় জেলেদের মিলনমেলা। এক গ্রুপ ট্রলার নিয়ে নদীতে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে, আরেক গ্রুপ নদীর পাড়ে বসে কারেন্ট জাল ও ট্রলারের ইঞ্জিন মেরামত করছে।

এলাকার এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “অভিযানের প্রথম দিন জেলেরা নদীতে না নামলেও দ্বিতীয় দিন থেকে জেলেরা নদীতে নামছে। জেলেরা সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেই ইলিশ শিকার করছে।”

সদর উপজেলা মৎস্য সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “আমরা কিছুক্ষণ আগেই অভিযান শেষ করে এখানে এসেছি। কিছু জাল জব্দ করেছি। সেগুলো এখন আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হলো।” মহাদেবপুর এলাকায় জেলেদের নদীতে মাছ ধরার বিষয়টি জানালে তিনি দাবি করেন, “আমরা তো নদীতে কাউকে দেখিনি।”

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাহবুব উল হক বলেন, “রাজবাড়ীতে পদ্মা নদীর অংশ রয়েছে প্রায় ৫৭ কিলোমিটার। পদ্মা নদীর এই বড় একটি অংশে একই সময়ে অভিযান দেওয়া সম্ভব হয় না। এক দিকে অভিযান চালালে অন্য দিকে জেলেরা নামে। কিছু অসাধু জেলে যারা রয়েছে তারা এ সময় নদীতে নামবেই। আমরা চেষ্টা করছি অভিযানের মাধ্যমে এসব অসাধু জেলেদেরকে আটক করার।”

মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় ইলিশ আহরণে সম্পৃক্ত ৫ হাজার ৭৭৭ জন জেলের মধ্যে মাত্র ১ হাজার ২৮০ জনের মাঝে ভিজিএফ চাল বিতরণ করা হয়েছে। বাকি ৪ হাজার ২১৭ জনকে চাল বিতরণের কাজ আগামী বৃহস্পতিবার নাগাদ সম্পন্ন করা হবে বলে মৎস্য অফিস থেকে জানানো হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *