
খবর ৫২ ডেস্কঃ দেশে ‘উগ্র প্রতিক্রিয়াশীল সাম্প্রদায়িক’ গোষ্ঠীর উত্থান ঘটছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)–এর সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স।
শুক্রবার বিকেলে ঢাকায় দলের ত্রয়োদশ জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে তিনি এই মন্তব্য করেন।রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, ‘আমরা দেখতে পাচ্ছি, দেশে দক্ষিণপন্থী উগ্র প্রতিক্রিয়াশীল সাম্প্রদায়িক শক্তির উত্থান ঘটছে। আধিপত্যবাদী ও সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো আমাদের দেশের ওপর আধিপত্য বিস্তারে আগ্রাসী ভূমিকা নিচ্ছে।
গণতন্ত্রের পথে হাঁটতে অবিলম্বে সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন জরুরি হলেও কিছু মহল তা বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে। সরকারের কিছু উপদেষ্টা এবং সমর্থক রাজনৈতিক দলের কার্যকলাপও সময়মতো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।’
বৈষম্যহীন ও মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে সিপিবির ত্রয়োদশ জাতীয় সম্মেলন শুরু হয়েছে। ঢাকার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন প্রাঙ্গণে জাতীয় সংগীত পরিবেশন, জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন এবং অস্থায়ী শহীদ বেদীতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশন শুরু হয়।
অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন কংগ্রেস প্রস্তুতি কমিটির চেয়ারম্যান আবু সাইদ।
সিপিবি সাধারণ সম্পাদক ও বাম গণতান্ত্রিক জোটের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, ‘এবারের গণঅভ্যুত্থানে গণতন্ত্র ও বৈষম্যহীন সমাজের আকাঙ্ক্ষা নতুন করে সামনে এসেছে। শত শত শহীদের আত্মত্যাগে এই লড়াই এগিয়ে চলেছে। নীতিনিষ্ঠ অবস্থান থেকে কমিউনিস্টরা এই সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে এবং সারা দেশে সাধারণ মানুষের স্বার্থে কথা বলার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘গণতন্ত্র ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের জন্য দুর্বৃত্তায়িত অর্থনীতি–রাজনীতির অবসান ঘটিয়ে বাম গণতান্ত্রিক বিকল্প শক্তির সমাবেশ গড়ে তোলা জরুরি। সংস্কার নিয়ে আলোচনা হলেও জনজীবনের সংকট সমাধানে মৌলিক সংস্কারের প্রশ্ন তোলা হচ্ছে না। এবারের কংগ্রেসে এসব বিষয়ে সুনির্দিষ্ট করণীয় নির্ধারণ করা হবে।’
সিপিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এবারের কংগ্রেসে সারা দেশ থেকে ৫৫০ জন প্রতিনিধি ও পর্যবেক্ষকসহ ৬ শতাধিক সদস্য অংশ নিচ্ছেন।
আগামী ২০ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর রাজধানীর তোপখানা রোডে বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে কাউন্সিল অধিবেশন।
