
ভারতের মুসলিমদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও বৈষম্যের বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে কঠোর বার্তা দিয়েছেন ওমানের গ্র্যান্ড মুফতি শেখ আহমেদ বিন হামাদ আল-খালিলি। সম্প্রতি দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যেন মুসলিমদের প্রতি শত্রুতা ও বিদ্বেষমূলক মনোভাব থেকে সরে এসে অতীতের মুসলিম শাসকদের উদারতা ও সহনশীলতা স্মরণ করা হয়। একই সঙ্গে তিনি পাকিস্তানকে ‘আগ্রাসীদের বিরুদ্ধে বিজয় অর্জনের’ জন্য প্রকাশ্য অভিনন্দন জানিয়েছেন, যা স্পষ্টভাবে চলমান ভারত-পাকিস্তান দ্বন্দ্বের প্রেক্ষাপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক মন্তব্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সোমবার (১২ মে) দেওয়া এই বিবৃতিতে মুফতি আল-খালিলি পাকিস্তানকে আহ্বান জানান, যেন তারা দৃঢ়তা ও সহমর্মিতার সঙ্গে মুসলিম বিশ্বের পাশে দাঁড়ায়, বিশেষ করে পবিত্র আল-আকসার ভূমিতে নিপীড়িত মুসলমানদের পক্ষে। তাঁর এই বক্তব্য মিডল ইস্ট আই প্রকাশ করে মঙ্গলবার (১৩ মে)। এতে ভারত সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন—ভারতের ইতিহাসে মুসলিম শাসকরা সব ধর্মাবলম্বীর প্রতি দয়া ও সহনশীলতা প্রদর্শন করেছেন, সেই ঐতিহ্য স্মরণ রেখে বর্তমান সরকার যেন মুসলিমদের প্রতি বৈরিতার অবসান ঘটায়। তাঁর বিবৃতিতে মুসলিমদের প্রতি সহানুভূতির আহ্বান এবং পাকিস্তানের প্রশংসা—এই দুই বার্তা দক্ষিণ এশীয় ভূরাজনীতিতে নতুন মাত্রা যুক্ত করেছে।
ওমানের এই অবস্থান কেবল ধর্মীয় অনুভূতির জায়গা থেকে নয়, ঐতিহাসিক ও কৌশলগত সম্পর্কের দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, ওমান অতীতে পাকিস্তানের গোয়াদর অঞ্চল প্রায় দুই শতক শাসন করেছে (১৭৮৪–১৯৫৮)। এমনকি ১৯৫৬ সালে ওমান গোয়াদর বিক্রির প্রস্তাব দিয়েছিল স্বাধীন ভারতকে, যা তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু প্রত্যাখ্যান করেন। শেষ পর্যন্ত ১৯৫৮ সালে পাকিস্তান অঞ্চলটি ওমান থেকে কিনে নেয়। বর্তমানে ওমান পাকিস্তানের সঙ্গে সামুদ্রিক সীমান্ত ভাগ করে এবং উভয় দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। সম্প্রতি ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে টানা গোলাবর্ষণের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় ১১ মে একটি যুদ্ধবিরতির চুক্তি হয়, যেটিকে ওমান সরকার স্বাগত জানায়।
এই বিবৃতির পেছনে একটি বড় বাস্তবতা হলো—ভারতে সংখ্যালঘু মুসলিম, শিখ ও খ্রিস্টানদের প্রতি হিন্দুত্ববাদী সহিংসতা ও বৈষম্য নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ দিন দিন বাড়ছে। ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে হিন্দু জাতীয়তাবাদের প্রসার উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে বলে সমালোচকরা মনে করেন। এমনকি গুজরাট দাঙ্গার সময় (২০০২) তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মোদিকে ব্রিটিশ ফরেন অফিস তাদের এক প্রতিবেদনে ‘সরাসরি দায়ী’ হিসেবে আখ্যা দেয়। এই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটেই ওমানের গ্র্যান্ড মুফতির মন্তব্য শুধু ধর্মীয় নয়, এক গভীর আন্তর্জাতিক বার্তাও বহন করে—যেখানে ভারতের জন্য রয়েছে আত্মবিশ্লেষণের সুযোগ এবং দক্ষিণ এশিয়ার মুসলিমদের জন্য সহমর্মিতার প্রতিশ্রুতি। তথ্যসূত্র : মিডল ইস্ট আই
