
ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলের উদ্বোধনী ম্যাচ থেকেই কারিগরি বিপর্যয়ে পড়েছে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম টফি, বায়স্কোপ ও আইস্ক্রিনের গ্রাহকরা। সাবস্ক্রিপশন কিনেও খেলা দেখতে না পেরে ক্ষোভে ফেটে পড়ছেন হাজারো গ্রাহক।
বিশ্বকাপ শুরুর আগে টফি ঘটা করে বিজ্ঞাপন দিয়ে ঘোষণা করেছিল, মাত্র ৯৯ টাকার বিশেষ প্যাকেজে সব ম্যাচ দেখা যাবে তাদের প্ল্যাটফর্মে। সে ঘোষণায় ভরসা রেখে অনেকেই সাবস্ক্রিপশন কিনেছিলেন। কিন্তু গতকাল বৃহস্পতিবাররাতে প্রথম ম্যাচ শুরু হতেই বিপত্তি। অ্যাপ ক্র্যাশ, বাফারিং এবং সার্ভার ডাউনের কারণে অধিকাংশ গ্রাহক একটি মুহূর্তের জন্যও সরাসরি সম্প্রচার দেখতে পাননি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাত থেকেই শুরু হয় ক্ষোভের ঢল। একাধিক ব্যবহারকারী লিখেছেন, টাকা নেওয়ার আগে যে তৎপরতা, সেবা দেওয়ার বেলায় তার ছিটেফোঁটাও নেই। অনেকে আবার বাধ্য হয়ে অবৈধ থার্ড পার্টি সাইটে গিয়ে খেলা দেখেছেন বলে জানিয়েছেন।
সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী আল শাহরিয়ার আমাদের সময়কে বলেন, ‘বৈধ উপায়ে খেলা দেখার জন্য আমি টাকা দিয়ে ট্রফির সাবস্ক্রিপশন নিয়েছিলাম। প্রতিষ্ঠানটি সেবা দেওয়ার আশ্বাস দিলেও তা বাস্তবায়ন করতে পারেনি, যা আমার কাছে প্রতারণার শামিল মনে হয়েছে। ফলে বাধ্য হয়ে বিভিন্ন বিকল্প লিংকের মাধ্যমে খেলা দেখতে হয়েছে। আমি আমার পরিশোধ করা অর্থ জরিমানাসহ ফেরত চাই।’
বিষয়টি নিয়ে এক বিবৃতিতে ট্রফি জানিয়েছে, ডিজিটাল সম্প্রচার ফিড সংক্রান্ত জটিলতার কারণে বিশ্বকাপের লাইভ সম্প্রচারে বিঘ্ন ঘটছে। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, সমস্যাটি দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে তারা সম্প্রচার স্বত্বাধিকারী বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি)-এর সঙ্গে নিরলসভাবে কাজ করছে। এ কারণে দর্শকদের যে ভোগান্তি হয়েছে, তার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে ট্রফি জানিয়েছে, পরিস্থিতি সম্পর্কে শিগগিরই আরও আপডেট জানানো হবে।
আইটি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বড় আয়োজনের আগে সার্ভার সক্ষমতা যাচাই না করাই এই বিপর্যয়ের মূল কারণ। একসঙ্গে লাখো দর্শক প্ল্যাটফর্মে ঢুকলে যে চাপ তৈরি হয়, তা সামলানোর প্রস্তুতি ছিল না টফির। এটা অবশ্যই অপেশাদারিত্বের পরিচয়।
আরেক ভোক্তভোগী শাওন সরকার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি টফির বিরুদ্ধে মামলা করার কথাও ভাবছি। টাকা দিয়ে সাবস্ক্রিপশন কিনেও খেলা দেখতে পারিনি। সারাক্ষণ বাফারিং আর প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে দর্শক হিসেবে চরম ভোগান্তিতে পড়েছি। এখন মনে হচ্ছে, স্টেডিয়ামে যে পরিমাণ টিকিট বিক্রি হয়েছে, তার আনুপাতিক হারে ক্ষতিপূরণ দাবি করা উচিত। দেশের সম্মানিত আইনজীবীদের কাছে এ বিষয়ে পরামর্শও চাইছি। টফি-কে বুঝতে হবে, গ্রাহকদের সময়ের মূল্য আছে।’
একই ধরনের ভোগান্তির অভিযোগ উঠেছে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম আইস্ক্রিন ও বায়োস্কোপ প্লাসের বিরুদ্ধেও। সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে গ্রাহকরা জানান, বাফারিং, সার্ভার জটিলতা ও সম্প্রচার বিঘ্নের কারণে তারা নিরবচ্ছিন্নভাবে খেলা উপভোগ করতে পারেননি। দেশের ওটিটি শিল্পের জন্য এ ঘটনা একটি বড় সতর্কবার্তা। গ্রাহকদের আস্থা অর্জনে বিজ্ঞাপনের চেয়ে মানসম্পন্ন সেবাই যে আসল পথ এ বাস্তবতা এখন আর এড়ানোর সুযোগ নেই।
