ছাত্রদের কাপড় খুলে ভিডিও করে রাখতেন তৌহিদ আফ্রিদি, দাবি রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর

বাংলাদেশ শিরোনাম

খবর ৫২ নিউজ

কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদি আন্দোলনের সময় ছাত্রদের নগ্ন করে ভিডিও ধারণ করে রাখতেন বলে আদালতে দাবি করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট নয়ন। সোমবার (২৫ আগস্ট) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই দাবি করা হয়। পরে আদালত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তৌহিদ আফ্রিদিকে ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

শুনানি শেষে আইনজীবী নয়ন বলেন, “তৌহিদ আফ্রিদি একজন ইউটিউবার এবং মিডিয়া সন্ত্রাসী। তার ইউটিউব চ্যানেল ও ফেসবুক পেইজের মাধ্যমে ছাত্রসমাজ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, আওয়ামী লীগসহ সকলকে উসকে দিয়ে এই হত্যাকাণ্ডে সে সরাসরি জড়িত ছিল।” তিনি আরও বলেন, “তৌহিদ আফ্রিদি যেসব ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিল, তাদের শরীরের কাপড় খুলে ভিডিও করে রেখে দিত এবং জিম্মি করে রাখতো। পুলিশ তাকে দীর্ঘদিন ধরে খুঁজছিল। গতকাল তাকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি আদালতে উপস্থাপন করলে আমরা রিমান্ডের আবেদন করি। আদালত উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।”

অন্যদিকে, তৌহিদ আফ্রিদির আইনজীবী খায়রুল ইসলাম রিমান্ড বাতিল ও জামিনের আবেদন করেন। তিনি বলেন, বাদীর অভিযোগ অনুযায়ী, ভুক্তভোগী আসাদুল আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন। এখানে আসামির কোনো ভূমিকা নেই। তিনি আরও বলেন, গত বছরের ১১ নভেম্বর মামলার বাদী হলফনামা দিয়ে বলেছেন যে, তথ্যগত ভুলের কারণে তৌহিদ আফ্রিদির নাম এই মামলায় যোগ হয়েছে এবং তাকে খালাস দিলে বাদীর কোনো আপত্তি নেই।

আইনজীবী আরও জানান, তৌহিদ আফ্রিদি লিভার ও কিডনি জটিলতায় ভুগছেন। তার স্ত্রীও গর্ভবতী। মানবিক দিক বিবেচনা করে তার জামিন মঞ্জুর করার আবেদন জানান তিনি।

সোমবার দুপুরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক খান মো. এরফান তৌহিদ আফ্রিদিকে ৭ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করলে আদালত ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে রোববার রাতে সিআইডি তাকে বরিশাল থেকে গ্রেপ্তার করে। এই মামলায় তার বাবা মাইটিভি চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন সাথীকেও ১৭ আগস্ট গুলশান থেকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তিনি বর্তমানে কারাগারে আছেন।

মামলার সূত্র অনুযায়ী, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে গত বছরের ৫ আগস্ট যাত্রাবাড়ী এলাকায় মো. আসাদুল হক বাবু নামের একজন আন্দোলনকারী নিহত হন। তার বাবা জয়নাল আবেদীন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৫ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় নাসির উদ্দিন ২২ নম্বর এবং তার ছেলে তৌহিদ আফ্রিদি ১১ নম্বর আসামি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *