
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলায় পদ্মা নদীর বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ও পানিবন্দী প্রায় ২ হাজার ৭০০ পরিবারকে সরকারি ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে বেসরকারি উদ্যোগে এই দুই উপজেলার আরও হাজার হাজার পরিবারকে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৫ আগস্ট) শিবগঞ্জ উপজেলার পাকা ইউনিয়নের চরপাকা এলাকায় ৭০০ পরিবারের মাঝে চাল বিতরণ করেছে উপজেলা প্রশাসন। এ সময় সরকারি মেডিক্যাল ও ভেটেরিনারি টিম বিনামূল্যে ওষুধ ও চিকিৎসা সেবাও প্রদান করে। এছাড়া, সমাজসেবা বিভাগের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ভাতাভোগীদের হাতে নগদ অর্থ তুলে দেওয়া হয়।
জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে গত ৪ আগস্ট থেকে দ্বিতীয়বারের মতো পদ্মার পানি বাড়তে শুরু করে এবং ১৩ আগস্ট তা বিপদসীমার মাত্র ৩১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়। এতে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে হাজার হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়ে। তবে ১৪ আগস্ট থেকে পানি কমতে শুরু করলেও কিছু এলাকায় এখনও জলাবদ্ধতা রয়েছে।
বন্যায় সদরের নারায়ণপুর, আলতুলি, ইসলামপুর, দেবীনগর, শাজাহানপুর, চরবাগডাঙ্গা এবং শিবগঞ্জের ঘোড়াপাকিয়া, উজিরপুর, পাঁকা, দূর্লভপুর ও মনাকষাসহ ১২টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। এতে গবাদিপশু নিয়ে মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। দেখা দিয়েছে মানুষ ও পশুর খাদ্য সংকট। তলিয়ে গেছে হাজার হাজার বিঘা ফসলি জমি ও বাগান। গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় প্রায় ৬০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ হয়ে গেছে।
প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলায় প্রায় সাড়ে ৯ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়েছে। যদিও সব এলাকা থেকে মানুষকে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি, তবে অনেক ফসলি জমি পানির নিচে চলে গেছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, দুই উপজেলায় প্রায় ১৫ হাজার বিঘা (২১০ হেক্টর) ফসলি জমি প্লাবিত হয়েছে, তবে সব জমির ফসল নষ্ট হয়নি।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম বলেন, ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত প্রতিবেদন তৈরি করা হচ্ছে। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারি পর্যায়ে পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী মজুত আছে। শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আজাহার আলী জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
