গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশের পাশে থাকার আশ্বাস যুক্তরাষ্ট্রের

আন্তর্জাতিক শিরোনাম

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় দৃঢ় সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটি একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের প্রত্যাশা করছে বলে জানিয়েছে।

শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) ওয়াশিংটন ডিসিতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের রাজনৈতিক বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি অ্যালিসন হুকারের সঙ্গে বৈঠকে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান। শনিবার প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বৈঠকে ড. খলিলুর রহমান বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি ও আয়োজন সম্পর্কে মার্কিন কর্মকর্তাকে অবহিত করেন। একই সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে নির্বাচনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

অ্যালিসন হুকার বলেন, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন অব্যাহত থাকবে এবং ফেব্রুয়ারিতে একটি বিশ্বাসযোগ্য ও অবাধ নির্বাচন প্রত্যাশা করে ওয়াশিংটন।

এসময় সম্প্রতি চালু হওয়া মার্কিন ‘ভিসা বন্ড’ ব্যবস্থার কারণে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের যাতায়াত সহজ করার অনুরোধ জানান ড. খলিলুর রহমান। বিশেষ করে বি-১ ব্যবসায়িক ভিসায় বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের এই বন্ড থেকে অব্যাহতির অনুরোধ করেন তিনি। জবাবে হুকার বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনার আশ্বাস দেন।

তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে ওভারস্টে হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেলে ভিসা বন্ড নীতিমালা পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে। পাশাপাশি নথিপত্রহীন বাংলাদেশিদের ফেরত নিতে ঢাকার সহযোগিতার প্রশংসা করেন তিনি।

বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে কৃষিপণ্য আমদানি বৃদ্ধি পাওয়ায় দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন ড. রহমান। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে ধন্যবাদ জানান তিনি এবং ভবিষ্যতেও এই সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

অ্যালিসন হুকার বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রশংসা করেন এবং সংকটের সমাধানে আন্তর্জাতিক দায়িত্ব ভাগাভাগির প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের জীবনমান উন্নয়নে সুযোগ বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

এছাড়া বাংলাদেশের বেসরকারি খাতে ডিএফসি অর্থায়ন ও সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে আর্থিক সহায়তা চেয়ে প্রস্তাব দেন ড. খলিলুর রহমান। হুকার এসব প্রস্তাব গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেন।

বৈঠকে গাজায় প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা বাহিনীতে অংশগ্রহণে বাংলাদেশের নীতিগত আগ্রহের কথাও জানান জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী বলে জানান হুকার।

এর আগে আলাদা বৈঠকে মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন ড. রহমান। সেখানে নির্বাচন, রোহিঙ্গা সংকট, ভিসা বন্ড, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ ইস্যু গুরুত্ব পায়।

পরে বাংলাদেশে নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের শপথ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে যোগ দেন ড. খলিলুর রহমান। অনুষ্ঠানে মার্কিন উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইকেল জে রিগাস বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে এবং নির্বাচনের পর নবগঠিত সরকারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এগিয়ে নিতে কাজ করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *