কুমিল্লা নগরে কিশোর গ্যাংয়ের প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে মহড়া এবং ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় পুলিশ পাঁচজন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে। শুক্রবার বিকালে এই ঘটনা ঘটে এবং এর ফলে নগরী জুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষত ভর্তি পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে এই মহড়ায় অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা ভীত হয়ে পড়েন।
অস্ত্র মহড়া ও আতঙ্কের দৃশ্য
শুক্রবার বিকাল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত কুমিল্লা নগরের রাণীর দীঘিরপাড়, তালপুকুরপাড়, আদালতপাড়া এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের অস্ত্র মহড়া চলে। এ সময় দুই থেকে তিনশ’ কিশোর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এদিক-ওদিক ছুটাছুটি করে। তাদের সামনে নেতৃত্ব দেয় আরও ১৫-২০টি মোটরসাইকেল। এই মোটরসাইকেলগুলো বিকট আওয়াজে সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এছাড়াও রাণীর দীঘিরপাড়ে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
এই মহড়ায় ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের বাইরে অপেক্ষমাণ বিভিন্ন জেলা থেকে সন্তানদের নিয়ে আসা অভিভাবকরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। একই সময়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় এবং শহরের আরও ২০টি উপকেন্দ্রে পরীক্ষা চলছিল।
গ্রেপ্তারকৃতদের তথ্য
কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার পুলিশ অভিযানে গ্রেপ্তারকৃত ৫ জনের তথ্য নিম্নরূপ:
- রেজাউল করিম নাফিজ (১৮) – কুমিল্লা নগরের বাগিচাগাঁও এলাকার সোহাগ মিয়ার ছেলে।
- মো. সিফাত (১৬) – কালিয়াজুরী পাক্কার মাথা এলাকার মো. সেলিমের ছেলে।
- আরমান ইসলাম রাজিম (১৭) – মো. অলিউল্লা’র ছেলে।
- রাকিব হোসেন (১৬) – উত্তর চর্থা এলাকার মোস্তফা মিয়ার ছেলে।
- মেহেদী হাসান (২৪) – টিক্কাচর এলাকার মো. ইয়াসিনের ছেলে।
উল্লেখ্য, এই পাঁচজনকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
পুলিশের বক্তব্য
কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মহিনুল ইসলাম বলেন, “আমরা অভিযান অব্যাহত রেখেছি। মহড়া দিয়ে তারা ছড়িয়ে ছিটিয়ে গা-ঢাকা দিয়েছে। তথ্য প্রযুক্তির সাহায্যে তাদের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান চলমান আছে।”
ঘটনার প্রভাব
এই মহড়ার ফলে নগরী জুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষত ভর্তি পরীক্ষার সময়ে এই ঘটনা অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিশেষ ভীতি তৈরি করে। এই ধরনের ঘটনা স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপর গুরুতর প্রভাব ফেলে।
উপসংহার
পুলিশ বর্তমানে অতিরিক্ত অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে এবং আরও কিছু সদস্যকে গ্রেপ্তার করার চেষ্টা করছে। এই ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে স্থানীয় সরকার ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন। বিশেষত কিশোর গ্যাং ও অস্ত্র ব্যবহারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া দরকার।
সংগৃহীত ও সম্পাদিত জন্য khobor52.com
