ভারত কর্তৃক বাংলাদেশের ট্রানজিট সুবিধা স্থগিত করে দেওয়ার পর প্রথমবারের মতো সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কার্গো ফ্লাইট চালু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। রোববার (২৮ এপ্রিল) এই উদ্যোগের অধীনে প্রথম ফ্রেইটার ফ্লাইটে ৬০ টন তৈরি পোশাক স্পেনে পাঠানো হবে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস বলছে, এই কার্যক্রম প্রাথমিকভাবে উড়োজাহাজ ভাড়া করে পরিচালিত হবে।
সিলেট থেকে শুরু হচ্ছে কার্গো ফ্লাইট
বিমান বাংলাদেশের কার্গো বিভাগের পরিচালক শাকিল মেরাজ বলেন, “এয়ারবাসের এ–৩৮০ উড়োজাহাজে ৬০ টন তৈরি পোশাক আমরা প্রথম চালানে পাঠাব।” এর জন্য কর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সেফটি ও সিকিউরিটি প্রটোকল অনুযায়ী সার্টিফিকেশন সম্পন্ন হয়েছে। প্রতি সপ্তাহে চারটি উড়োজাহাজে পণ্য পরিবহন করা হবে।
ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা বাতিলের পর আকাশপথে আরও বেশি পণ্য পরিবহনের জন্য বাংলাদেশ নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কার্গো হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বাড়িয়েছে বিমান বাংলাদেশ।
চট্টগ্রাম ও ঢাকার পদক্ষেপ
চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও শীঘ্রই ফ্রেইটার ফ্লাইট চালুর জন্য প্রস্তুতি চলছে। ২৭০ টনের কার্গো স্টেশন সচল করা হচ্ছে। চট্টগ্রাম থেকে চীনে ফ্লাইট চালুর বিষয়ে আলোচনা চলছে।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) চেয়ারম্যান মো. মঞ্জুর কবীর ভূঁইয়া বলেন, “চট্টগ্রামে খুব শিগগিরই কার্গো ফ্লাইট চালু করা হবে। প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হচ্ছে।”
ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও কার্গো চাপ বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীরা দ্রুত তৃতীয় টার্মিনাল চালুর দাবি জানিয়েছেন।
ব্যবসায়ীদের আহ্বান: মনোপলি ব্যবসা বন্ধ করতে হবে
তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিকেএমইএ-এর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, “যে কোনো বিমানবন্দর থেকে পণ্য পাঠানোর সময় আমাদের প্রতি কেজি পণ্যের জন্য ২ থেকে ২.৫ ডলার খরচ হওয়া উচিত। কিন্তু বর্তমানে ৪ থেকে ৭ ডলার পর্যন্ত খরচ হচ্ছে। এই মনোপলি ব্যবসা বন্ধ করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “এর জন্য সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে। প্রথমে বিদেশি এয়ারলাইনসগুলোকে ডেকে আলোচনা করতে হবে। পরবর্তীতে বিমান বাংলাদেশকে কার্গো হ্যান্ডলিং শুরু করতে হবে।”
ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা বাতিলের প্রভাব
ভারত কর্তৃক বাংলাদেশের ট্রানজিট সুবিধা স্থগিত করে দেওয়ার পর দেশের রপ্তানি ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। এর ফলে আকাশপথে আরও বেশি পণ্য পরিবহনের প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ এখন নিজস্ব বিমানবন্দরগুলোকে কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের জন্য সজ্জিত করছে।
উপসংহার
ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা বাতিলের পর বাংলাদেশ নতুন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে আকাশপথে পণ্য পরিবহনের জন্য। সিলেট, চট্টগ্রাম ও ঢাকার বিমানবন্দরগুলো এখন কার্গো ফ্লাইটের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই উদ্যোগগুলো দেশের রপ্তানি ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সংগৃহীত ও সম্পাদিত জন্য khobor52.com
