বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান জানিয়েছেন, গরমের সময়ে লোডশেডিংকে সহনীয় পর্যায়ে রাখতে সরকার বাড়তি এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) ও পর্যাপ্ত কয়লা আনার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের বিদ্যুৎ চাহিদার প্রজেকশন ১৮ হাজার মেগাওয়াট। এই চাহিদা পূরণের জন্য যথাসম্ভব প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। তিনি আশা করছেন, অধিকাংশ চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে এবং লোডশেডিং সহনীয় পর্যায়ে থাকবে।
শনিবার বিদ্যুৎ ভবনের বিজয় হলে ফোরাম ফর এনার্জি রিপোর্টার্স বাংলাদেশ (এফইআরবি) আয়োজিত ‘জ্বালানি সংকট উত্তরণের পথ’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। এফইআরবি-এর চেয়ারম্যান মো. শামীম জাহাঙ্গীরের সভাপতিত্বে এবং নির্বাহী পরিচালক সেরাজুল ইসলাম সিরাজের সঞ্চালনায় সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়।
বিদ্যুৎ উপদেষ্টার বক্তব্য
বিদ্যুৎ উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান বলেন, গ্রাম ও শহরের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহে কোনো বৈষম্য থাকবে না। তিনি বলেন, “বিদ্যুৎ পরিস্থিতি এবার সহনীয় থাকবে। জ্বালানি আমদানি করতে পারবো এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ রাখতে হবে।”
তিনি রাজনীতিবিদদের উদ্দেশ্যে বলেন, “ক্রাইসিস বললেই রাজনীতিবিদদের সুবিধা হয়। ক্রাইসিস বলেই রেন্টার-কুইক রেন্টাল হয়েছে। ক্রাইসিসকে অনেকে সুবিধা হিসাবে নেয়।”
উপদেষ্টা সাংবাদিকদের সহানুভূতিশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “অনেকে সংবাদ করছে ভয়াবহ লোডশেডিং হচ্ছে। কিন্তু দেশে সর্বোচ্চ লোডশেডিং হয়েছে ২৪শে এপ্রিল ১৩৯ মেগাওয়াট। মূলত বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ থাকলে লোডশেডিং হয়। কিন্তু দেশের বিভিন্ন জায়গায় ট্রান্সফরমার নষ্ট হয়ে যায়। এতে মেরামতে একটু সময় লাগে। কিন্তু সেটা লোডশেডিং নয়।”
জ্বালানি আমদানি ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি উন্নয়ন
তিনি আরও বলেন, সরকার এলএনজি আমদানি পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সাথে সাথে সিস্টেম লস কমানোর প্রচেষ্টা চলছে। গ্যাস চুরি রোধে পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, “আগামী জুন মাসের মধ্যে সিস্টেম লস কমে আসবে। লাইন লিকেজ ঠিক করা হচ্ছে।”
বিদ্যুৎ খাতে প্রকল্পের অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানো হয়েছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, “বিদ্যুৎ খাতের বকেয়া পরিশোধের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। বিল পেমেন্ট না করলে কোন দেশ ব্যবসা করবে না।”
জ্বালানি সংকটের সমাধানের পথ
সেমিনারে কনজুমারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. শামসুল আলম বলেন, জ্বালানি সংকট কেবল একটি কারিগরি সমস্যা নয়—এটি অধিকার, সাম্য ও সুশাসনের প্রশ্ন। তিনি বলেন, “জ্বালানির সুবিচার ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়। বাংলাদেশকে এখন একটি সচেতন সিদ্ধান্ত নিতে হবে।”
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম জ্বালানির জন্য নতুন নীতিমালা দাবি করে বলেন, “আমরা কোনোভাবে এলএনজিকে উৎসাহিত করতে পারি না। দেশে গ্যাস অনুসন্ধানে নতুন পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন।”
সাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও তেলের দাম নির্ধারণ
সাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের বিষয়ে বিদ্যুৎ উপদেষ্টা বলেন, “বিটে (BTE) কেউ অংশ নেয়নি। মিনিস্ট্রির ফাইনাল অ্যাপ্রুভ হলে পুনরায় রি-টেন্ডার করা হবে।”
তেলের দাম নির্ধারণ বিষয়ে তিনি বলেন, “বিইআরসি (BERC)-কে দাম নির্ধারণের দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে না। আমরা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দাম নির্ধারণ করছি। প্রতিবেশী দেশের দাম ও ভর্তুকির বিষয় বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।”
উপসংহার
সেমিনারে বক্তারা একমত হন যে, বর্তমান জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় দ্রুত ও সুষ্ঠু পদক্ষেপ গ্রহণ করা দরকার। সরকারের ঘোষিত পদক্ষেপগুলো যদি সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয়, তাহলে গরমের সময়ে লোডশেডিং সহনীয় পর্যায়ে রাখা সম্ভব হবে।
সংগৃহীত ও সম্পাদিত khobor52.com
