খবর ৫২ ডেস্ক

সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেনে সবচেয়ে বড় হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ভোরে রাশিয়া ৫৭৪টি ড্রোন ও ৪০টি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে এই হামলা চালায়। এতে ইউক্রেনের পশ্চিমাঞ্চলীয় লভিভ শহরে একজন নিহত এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ট্রান্সকারপাথিয়া অঞ্চলে ১৫ জন আহত হয়েছেন।
বিবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে এই হামলার বিস্তারিত তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই হামলার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধ থামাতে কূটনৈতিক উদ্যোগ শুরু করেছেন। ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রিই সিবিহা এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং বলেছেন, “এই ধরনের হামলা প্রমাণ করে কেন যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টা এত জরুরি।”
হামলার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে শান্তি আলোচনায় মধ্যস্থতার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি হোয়াইট হাউসে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এবং ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
এ বিষয়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে নিরপেক্ষ ইউরোপীয় দেশ, যেমন সুইজারল্যান্ড বা অস্ট্রিয়াতে, বৈঠকে বসতে প্রস্তুত। তিনি ইস্তানবুলেও বৈঠকের সম্ভাবনার কথা উড়িয়ে দেননি। তবে হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টে আলোচনার ব্যাপারে তিনি অনাগ্রহ প্রকাশ করেছেন, কারণ হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্র।
ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, জুলাই মাসের পর এটিই ছিল সবচেয়ে বড় রুশ আক্রমণ। সাধারণত রুশ হামলা পূর্বাঞ্চলে সীমাবদ্ধ থাকে, কিন্তু এবার পশ্চিমাঞ্চলেও আঘাত হেনেছে। ইউক্রেনের বিমানবাহিনী আরও জানায়, রাশিয়ার ছোড়া ৬১৪টি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ৫৭৭টি ধ্বংস করা সম্ভব হয়েছে।
এই আক্রমণে হাইপারসনিক, ব্যালিস্টিক এবং ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। হামলার কারণে লভিভ অঞ্চলে ২০টিরও বেশি বেসামরিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে আবাসিক বাড়ি ও একটি শিশুদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। ট্রান্সকারপাথিয়ার মুকাচেভো শহরে একটি মার্কিন ইলেকট্রনিকস কোম্পানির কারখানায় হামলায় ১৫ জন আহত হয়েছেন।
অন্যদিকে, জেলেনস্কি দাবি করেছেন, রাশিয়া দক্ষিণের জাপোরিঝঝিয়া ফ্রন্টে সেনা জড়ো করছে। তিনি বলেন, “আমরা দেখতে পাচ্ছি, তারা কুর্স্ক দিক থেকে সেনা সরিয়ে জাপোরিঝঝিয়ায় পাঠাচ্ছে।” ইউক্রেনও পাল্টা হামলা চালিয়েছে এবং রাশিয়ার রোস্তভ অঞ্চলের একটি তেল শোধনাগার এবং দখলকৃত দোনেৎস্ক শহরে রুশ ড্রোন ডিপোতে আঘাত হেনেছে।
