
মওদুদ আহমেদ, সম্পাদক – খবর ৫২
সম্পাদকীয়
আজ ৭ই নভেম্বর—বাংলাদেশের ইতিহাসে এক স্মরণীয় দিন, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস। এই দিনটি শুধু একটি রাজনৈতিক ঘটনা নয়; এটি স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে দেশপ্রেমিক জনগণ, সেনা সদস্য ও রাষ্ট্রপ্রেমিক শক্তির ঐক্যের প্রতীক।
১৯৭৫ সালের এই দিনে রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক সংকটের ঘূর্ণাবর্তে দেশ যখন অস্থির, তখন সৈনিক ও সাধারণ মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে জাতীয় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় এক অভূতপূর্ব ভূমিকা রাখে।
এই ঐতিহাসিক আন্দোলনের নেতৃত্বে উঠে আসেন একজন মুক্তিযোদ্ধা সেনানায়ক, পরবর্তীতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি — শহীদ জিয়াউর রহমান (বীর উত্তম)। তাঁর দৃঢ় নেতৃত্ব ও রাষ্ট্রচিন্তা বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন দিকনির্দেশনা এনে দেয়।
৭ই নভেম্বরের ঘটনা বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে একটি নতুন ধারার সূচনা করে। “বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ” দর্শনের মাধ্যমে জিয়াউর রহমান একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্রচেতনা প্রতিষ্ঠা করেন, যেখানে ধর্ম, ভাষা ও সংস্কৃতির বৈচিত্র্য সত্ত্বেও জাতীয় ঐক্যই ছিল মূল ভিত্তি। এই আদর্শ পরবর্তীতে বিএনপির রাজনীতির কেন্দ্রে পরিণত হয়।
আজ, যখন দেশ আবারও গণতন্ত্র, বাকস্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকারের প্রশ্নে সংগ্রামের পথে—৭ই নভেম্বরের সেই চেতনা আরও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। স্বাধীনতা রক্ষার মতোই গণতন্ত্র রক্ষাও আজ একটি জাতীয় দায়িত্ব।
“শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের বীরত্ব, কর্মনিষ্ঠা ও দূরদর্শিতা প্রমাণ করেছিল—জনগণের বিশ্বাস ও অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো রাষ্ট্র টেকসই হতে পারে না। তিনি বিশ্বাস করতেন, ‘জনগণই শক্তির উৎস।’”
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের এই মাহেন্দ্রক্ষণে প্রয়োজন অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতের পথে অগ্রসর হওয়া। রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হওয়াই আজকের আহ্বান।
শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বাংলাদেশ যেন গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার পথে অটল থাকতে পারে—এই হোক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের অঙ্গীকার।
