
ফিলিস্তিনের গাজায় ইতিহাসের সবচেয়ে বর্বর ইসরায়েলি আগ্রাসন চলছেই। প্রতি মূহুর্তেই প্রাণ হারাচ্ছেন নারী-শিশুসহ বৃদ্ধ অনেক নীরিহ ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী মুসলমানরা। তবে এবার স্বস্তির খবর হলো আরও ৩০ হাজার নতুন যোদ্ধা যুক্ত হয়েছে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের বহরে। এবার কি তবে শায়েস্তা হবে ইসলাম বিদ্বেষী দখলদার ইহুদি নেতানিয়াহু সরকার?
সম্প্রতি সৌদি আরবের স্যাটেলাইট টেলিভিশন আল আরাবিয়া তাদের এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, হামাসের সামরিক শাখা ইজ্জেদ্দিন আল-কাসসাম ব্রিগেড গাজা থেকে প্রায় ৩০ হাজার যুবককে নিজেদের দলে নিয়েছে। এই যুবকদের অধিকাংশই আগে গোপন প্রশিক্ষণ শিবিরে প্রশিক্ষণ নিয়েছে বলে জানানো হয়েছে সেই প্রতিবেদনে। এমকি এসব নতুন যোদ্ধারা গেরিলা যুদ্ধ, রকেট ছোঁড়া ও বোমা পুঁতে রাখার মতো কার্যকলাপে দীক্ষিত। এই খবরে যেমন কিছুটা স্বস্তি মিলেছে অসহায় ফিলিস্তিনিদের, তেমনি ভীতসন্ত্রস্ত ইসরায়েলি প্রেসিডেন্ট বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
সৌদির টেলিভিশনটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামাস বর্তমানে ড্রোন ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতিতে ভুগছে। তারা আইডিএফ-এর অবিস্ফোরিত অস্ত্রসহ বিভিন্ন ধ্বংসাবশেষ পুনঃব্যবহার করে স্থানীয়ভাবে বোমা ও অন্যান্য অস্ত্র তৈরি করছে। আর তাদের বহরে বর্তমানে এই অতিরিক্ত প্রশিক্ষিত ও দীক্ষিত যোদ্ধারা যুক্ত হওয়ায় এখন নতুন করে আবার এসব অস্ত্র তৈরিতেও কোন সমস্যা হবে না তাদের।
ইতিহাস বলে ফিলিস্তিনি এই স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস বেশিদিন চুপ থাকা মানেই বড় কিছুর আবিস্কার বা ভয়নক কিছু ঘটতে চলেছে। এর প্রমাণ সেই ২০২৩ সালের অক্টেবরেই পাওয়া গিয়েছিলো। নিশ্চুপ থাকা হামাস যোদ্ধারা নিজেদের আবিস্কারে উরন্ত এক যান বানিয়ে ইসরায়েলের অভ্যন্তরে ঢুকে হামলা চালিয়েছিলো। এবারও কি তবে তেমন কিছুই ঘটতে চলেছে?
নতুন এই ত্রিশ হাজার হামস যোদ্ধা ইসরায়েলের জন্য আতঙ্কের কারণ বলে ইতিমধ্যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিশ্বের প্রভাবশালী সব গণমাধ্যমগুলো। এদিকে যুদ্ধ বন্ধে ‘পূর্ণাঙ্গ চুক্তির’ আলোচনা চায় হামাস। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় বর্বর হামলা শুরু করে ইসরায়েলি বাহিনী। গত দেড় বছরে গাজা উপত্যকায় মোট নিহতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৫১ হাজার। সেই সঙ্গে আহতের সংখ্যা পৌঁছেছে প্রায় ১ লাখ ১৭ হাজারে। এই নিহত এবং আহতদের ৫৬ শতাংশই নারী ও শিশু। যদিও গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, নিহতের সংখ্যা ৬১ হাজার ৭০০ জনেরও বেশি। তবে, নতুন করে এই বিশাল সংখ্যক যোদ্ধা হামাসের বহরে যুক্ত হওয়ায় এখন যুদ্ধ পরিস্থিতি কোন দিকে যায় সেটিই দেখার বিষয়।
