পুতিনের শান্তি প্রস্তাব, ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় আগ্রহ

আন্তর্জাতিক

দীর্ঘ তিন বছর ধরে চলমান ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ বিশ্ববাসীর জন্য এক অনিশ্চয়তা ও আতঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে। লাখো মানুষের প্রাণহানি, শরণার্থী সংকট এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে এই যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাব ক্রমেই গভীর হচ্ছে। তবে এই জটিল পরিস্থিতিতে শান্তির ইঙ্গিত মিলেছে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কাছ থেকে। সম্প্রতি একতরফাভাবে ঘোষণা করা ইস্টার যুদ্ধবিরতির পর তিনি জানিয়েছেন, ইউক্রেনের সঙ্গে সরাসরি শান্তি আলোচনায় বসতে তিনি প্রস্তুত। এতে নতুন করে আশাবাদী হয়ে উঠেছে আন্তর্জাতিক মহল।

গত শনিবার (২০ এপ্রিল) রাশিয়া একতরফাভাবে ৩০ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে, যা ইস্টার উপলক্ষে কার্যকর ছিল। যদিও পরে উভয় পক্ষই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলে একে অপরের বিরুদ্ধে। এই পটভূমিতে রুশ রাষ্ট্রীয় টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পুতিন বলেন, “মস্কো সবসময় শান্তি আলোচনায় উন্মুক্ত এবং কিয়েভের দিক থেকেও আমরা একই সদিচ্ছা প্রত্যাশা করি।” তিনি আরও বলেন, “যুদ্ধবিরতির প্রতি আমাদের ইতিবাচক মনোভাব রয়েছে বলেই আমরা বারবার এ ধরনের উদ্যোগ নিচ্ছি।” ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির প্রস্তাবিত ৩০ দিনের যুদ্ধবিরতির বিষয়ে তিনি জানান, “এটি অবশ্যই বিবেচনার বিষয় এবং সম্ভাব্যভাবে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমেই সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত। আমরা প্রস্তাবটি উড়িয়ে দিচ্ছি না।”

ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ পুতিনের বক্তব্যের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, রুশ প্রেসিডেন্ট সরাসরি আলোচনার পথে যেতে আগ্রহী। অন্যদিকে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি যুদ্ধবিরতির সময়সীমা ৩০ দিন বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন, বিশেষ করে বেসামরিক লক্ষ্যবস্তু রক্ষার স্বার্থে। যুক্তরাষ্ট্রও এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব গ্রহণের পর যুদ্ধ বন্ধে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছেন এবং ইউক্রেনকে সমর্থন জানিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছাতে চাচ্ছেন। তবে এখনো পর্যন্ত মস্কোর কাছ থেকে বড় ধরনের ছাড় পাওয়া যায়নি। এর আগে গত মাসে ট্রাম্পের পূর্ণ ৩০ দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব রাশিয়া প্রত্যাখ্যান করেছিল, যদিও ইউক্রেন তা মেনে নিয়েছিল।

মার্কিন মধ্যস্থতায় সউদী আরবে পরোক্ষ আলোচনার মাধ্যমে রাশিয়া ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোয় আঘাত হানায় কিছুটা বিরতি দিতে সম্মত হলেও পরে উভয় পক্ষই এই বিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ করেছে। এমন বাস্তবতায় পুতিনের সরাসরি আলোচনার প্রস্তাব নতুন এক সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। যদি উভয় পক্ষ আন্তরিকভাবে এগিয়ে আসে, তবে দীর্ঘদিনের এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান ঘটানো সম্ভব। মানবিক বিবেচনায় এখন সময়—শান্তির পথে সাহসী পদক্ষেপ নেওয়ার। তথ্যসূত্র : আরব নিউজ 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *