
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া ১১ হাজারের বেশি নাবিককে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও)। গতকাল মঙ্গলবার সংস্থাটির মহাসচিব আরসেনিও ডোমিঙ্গুয়েজ এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, সংঘাত চলাকালে অন্তত ১৪ জন নাবিক প্রাণ হারিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র, ইরান, ওমানসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের সহায়তায় বড় পরিসরে উদ্ধার ও স্থানান্তর কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
ডোমিঙ্গুয়েজের মতে, সাম্প্রতিক সংঘাত বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালির স্বাভাবিক কার্যক্রমকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করেছে। এর ফলে হাজার হাজার বেসামরিক নাবিক দীর্ঘ সময় ধরে সেখানে আটকা পড়ে আছেন।
এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরকালে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর কাছে জানতে চাওয়া হয়, ইরান যদি ট্যাংকার থেকে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করে, তাহলে হরমুজ প্রণালিতে অবাধ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র কোনো নিশ্চয়তা দিতে পারবে কি না।
জবাবে রুবিও বলেন, হরমুজ একটি আন্তর্জাতিক জলপথ এবং কোনো রাষ্ট্রের সেখানে চলাচলের ওপর টোল বা ফি আরোপের অধিকার নেই।
আইএমওর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ওই অঞ্চলে প্রায় ৬০০ জাহাজ অবস্থান করছে। সংস্থাটির মহাসচিব জানান, নিরাপদ নৌ-চলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে জাতিসংঘ সন্তোষজনক নিশ্চয়তা পেয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ কয়েক মাসের অনিশ্চয়তা ও বিশ্ব বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাবের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া শান্তি চুক্তি সামুদ্রিক নিরাপত্তা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে বেসামরিক জাহাজের ওপর হামলার ঘটনাও বন্ধ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
অন্যদিকে সামুদ্রিক বিশেষজ্ঞ ক্যাপ্টেন কিয়েস বাকেন্স জানান, তেলবাহী জাহাজগুলো ইতোমধ্যে ধীরে ধীরে হরমুজ প্রণালিতে ফিরতে শুরু করেছে। ওমান সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী, জাহাজগুলোকে নিরাপদে চলাচলে সহায়তার জন্য একটি সুসংগঠিত ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে।
তার ভাষ্য, সম্ভাব্য টোল আদায়ের বিষয়টি উদ্ধার ও স্থানান্তর কার্যক্রমে বড় ধরনের বাধা হয়ে দাঁড়াবে না। তবে প্রণালিতে অবশিষ্ট মাইন এখনো উদ্বেগের কারণ। তারপরও ওমানের দেওয়া নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নাবিকদের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনবে এবং নির্ধারিত রুট অনুসরণ করলে নিরাপদে চলাচল সম্ভব হবে।
