
নির্বাচন পর্যবেক্ষণ-সংক্রান্ত সুপারিশ নিয়ে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনায় বসেছে নির্বাচন কমিশন। ভবিষ্যতে আরও নিরপেক্ষ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে কাজ করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। স্থানীয় নির্বাচনে জাতীয় নির্বাচনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চায় নির্বাচন কমিশন। ভোটকেন্দ্র স্থাপন থেকে শুরু করে সার্বিক প্রস্তুতি নিচ্ছে সাংবিধানিক এ সংস্থটি। গতকাল রাজধানীর একটি হোটেলে দুই দিনব্যাপী সংলাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ এসব কথা বলেন। এ নির্বাচন কমিশনার বলেন, বেশ কিছু সুপারিশ তাদের হাতে এসেছে। সেসব সুপারিশ পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও আলোচনা করে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা কমিশন নিতে পারবে। নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ বলেন, নির্বাচনের আগে পরে অবজার গ্রুপ, অংশীজনদের মতামত নিয়েছি; সবার সহযোগিতা পেয়েছি। এ সংলাপের মাধ্যমে নির্বাচন আরও কীভাবে অন্তর্ভুক্তিমূলক করা যায় সে সুপারিশ আসবে আশা করি। সব সুপারিশ পর্যালোচনা করে সামনের নির্বাচনে সংস্কার অগ্রাধিকার ও বাস্তবায়নে চেষ্টা করা হবে।
গণতন্ত্রের উত্তরণে এ ধরনের আলোচনা চলমান প্রক্রিয়া বলে জানিয়েছেন ইসি কমিশনার সানাউল্লাহ। তিনি বলেন, নির্বাচনের পরে যেসব সুপারিশ এসেছে তা আমরা মূল্যায়ন করছি, যাতে এ ধারাবাহিকতা এগিয়ে নিতে পারি। ভবিষ্যতে আরও নিরপেক্ষ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন কাজ করছে জানিয়ে আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, জাতীয় এবং স্থানীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপট এক না হলেও আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনে জাতীয় নির্বাচনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চায় নির্বাচন কমিশন। এতে ভোটকেন্দ্র স্থাপন থেকে শুরু করে সার্বিক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিধিমালায় কাজ চলছে জানিয়ে ইসি সানাউল্লাহ জানান, জাতীয় নির্বাচনের অভিজ্ঞতায় স্থানীয় ভোটের প্রস্তুতি চলছে। ইসির দক্ষতা এবং পর্যবেক্ষকদের প্রস্তাবিত বিষয়গুলো ভালোভাবে আমলে নিলে সামনের দিনগুলোতে ভালো কিছু সম্ভব। ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন করার পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতির কাজ করছে ইসি। এরই মধ্যে বিধি সংস্কারে অংশীজনদের মতামত নেওয়া হচ্ছে। এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেছে আন্তর্জাতিক ও দেশি অনেক সংস্থা। ইতোমধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, আনফ্রেল, কমনওয়েলথ পর্যবেক্ষক দল তাদের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছে। এ ধারাবাহিকতায় অংশীজনদের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ সুপারিশ নিয়ে আজও আলোচনা হবে।
স্থানীয় পর্যবেক্ষক, সিভিল সোসাইটি অর্গানাইজেশন, নির্বাচন কর্মকর্তাসহ অর্ধশতাধিক প্রতিনিধি, ইউরোপিয়ান পার্টনারশিপ ফর ডেমোক্রেসি (ইপিডি) এবং ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্ডেশন ফর ইলেক্টোরাল সিস্টেম (আইএফইএস)-এর যৌথ উদ্যোগে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত সুপারিশ, সংস্কারের অগ্রাধিকার এবং বাস্তবায়ন-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে এ সংলাপে অংশ নিচ্ছেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার নির্বাচনের আগে-পরে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে নানা ধরনের আলোচনা, সহায়তার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে আমাদের রিপোর্টে সুনির্দিষ্ট ১৯টি সুপারিশ তুলে ধরেছি। এ কর্মশালার মাধ্যমে আলোচনা করে আরও সুপারিশ আসবে আশা করি। এরপর অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে সেগুলো কাজে লাগাতে হবে। অংশীজনরা গণতান্ত্রিক নির্বাচনে ভূমিকা রেখেছে। নির্বাচন কমিশন সামনের দিনগুলোতে পর্যবেক্ষণ সুপারিশ যাতে এগিয়ে নিয়ে যাবে আশা করি। ইউরোপিয়ান পার্টনারশিপ ডেভেলপমেন্টের (ইপিডি)-এর মাইকেল লিডার স্বাগত বক্তব্যে বলেন, ইতোমধ্যে অনেকে তাদের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছেন। সবাইকে একত্রে নিয়ে এ কর্মশালা থেকে প্রাপ্ত সুপারিশ ভবিষ্যতের কর্মপন্থা তৈরিতে সহায়তা করবে। স্থানীয় নির্বাচনে কাজে লাগবে।
দুই দিনের সংলাপে বিভিন্ন সেশনে নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ, নির্বাচন কমিশনার তাহমিদা আহমদ, নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার, নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ (অব.) এবং নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ উপস্থিত।
