বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

জাতীয় শিরোনাম

বিদ্যুতের পাইকারি, সঞ্চালন এবং খুচরা মূল্যহার পুনর্নিধারণের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাবের বিষয়ে কমিশনের সিদ্ধান্ত জানাবে আজ। বিদ্যুতের দাম বাড়লে শিল্প, কৃষি, পরিবহনে খরচ বাড়বে। শেষ পর্যন্ত দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের আয়ের তুলনায় জীবনযাত্রার ব্যয় অস্বাভাবিক বেড়েছে, তাদের ওপর চরম চাপ সৃষ্টি হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমান নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কথা মাতায় রেখে গ্রাহকদের বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন। অপদিকে জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিতকরণে ভার্চুয়াল প্লাটফর্মে সভা করতে সকল সচিব, বিভাগীয় কমিশনার, ডিসি এবং ইউএনওদের নির্দেশনা দিয়ে চিঠি দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভগ। গতকাল মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভগের উপসচিব মো. মামুন স্বাক্ষরিত চিঠি দেয়া হয়েছে।

গণশুনাবিতে অংশ নেয়া সিপিবি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন বলেন, গণশুনানি মানুষের কাছে অগ্রহণযোগ্য হয়ে গেছে। জনগণের ওপর দাম বাড়ানোর প্রভাব হবে মূল আলোচনার বিষয়, অথচ প্রস্তাবে এটি নেই। দাম বাড়ানোর এ প্রস্তাব গ্রহণযোগ্য নয়। বিইআরসিও জনস্বার্থ দেখে না। কোনো অজুহাতে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো যাবে না। বিদ্যুতের দাম বাড়লে জিনিসপত্রের দাম বাড়বে, মানুষের অবস্থা ভয়াবহ হবে।

এদিকে বিদ্যুত খাতে সুশাসন ও জবাবদিহি নিশ্চিতের ওপর জোর দেয়া জন্য লিখিত অভিযোগ দিয়েছে ভোক্তারা। অপরদিকে নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎপাদন ও ব্যবহার বাড়াতে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন কিংবা সরবরাহ পর্যায়ে বড় ধরনের কর সুবিধা দিতে যাচ্ছে সরকার। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন পর্যায়ে আয়ের ওপর কর অব্যাহতি এবং সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারকারী হিসাবে কর রেয়াত দেয়া হতে পারে। আসন্ন ২০২৬-২০২৭ অর্থ বছরের বাজেটকে কেন্দ্র করে এমন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। শিগগিরই এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করবে সরকার। বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব নিয়ে গত ২০ ও ২১ এপ্রিল দুই দিনব্যাপী গণশুনানি আয়োজন করে বিইআরসি। সেখানে দেশের ছয়টি বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি প্রতি ইউনিট ৮৫ পয়সা থেকে ২ টাকা ৫ পয়সা পর্যন্ত দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়। প্রস্তাব অনুযায়ী, পিডিবি প্রতি ইউনিট ৮৫ পয়সা, আরইবি ১ টাকা ৭৭ পয়সা, ডিপিডিসি ১ টাকা ৫৪ পয়সা, ডেসকো ১ টাকা ৯৮ পয়সা, ওজোপাডিকো ১ টাকা ৩৯ পয়সা এবং নেসকো ২ টাকা ৫ পয়সা পর্যন্ত মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছে। বিতরণ কোম্পানিগুলোর বিদ্যুতের দাম গড়ে প্রতি ইউনিট ১ টাকা ২৫ পয়সা বাড়ানো যেতে পারে এমন সুপারিশ করেছে বিইআরসির কারিগরি কমিটি। গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। আজ বুধবার বিকেল ৩টায় কমিশন কার্যালয়ের শুনানি শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দিবে জানাবে বিইআরসি।

বিদ্যুৎ খাতের ব্যাপক সংস্কার ও দুর্নীতি দূর করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা দেয়া হয়। ইশতেহার অনুযায়ী বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে দলের মূল পরিকল্পনা নিয়ে দফায় দফায় জ্বালানি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী এবং সচিবের সাথে সভা করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
গতকাল সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে ইভি বৈদ্যুতিক কার উৎপাদন সংক্রান্ত সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।এতে উপস্থিত ছিলেন,অর্থমন্ত্রী, অর্থ উপদেষ্টা, এনবিআর চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এবং অর্থ সচিব। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা: আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ৩৫ হাজার মেগাওয়াটে এবং সঞ্চালন লাইন ২৫ হাজার সার্কিট-কিলোমিটারে উন্নীত করা। নবায়নযোগ্য জ্বালানি আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে মোট উৎপাদিত বিদ্যুতের ২০% নবায়নযোগ্য উৎস গুলোর মধ্যে সৌর, বায়ু ও বর্জ্য) থেকে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার দেড় দশকের ব্যয়বহুল স্বল্পমেয়াদি চুক্তি, উচ্চ ক্যাপাসিটি চার্জ এবং অতিরিক্ত আমদানিনির্ভরতার কারণে সৃষ্ট অদক্ষতা দূর করে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে কাঠামোগত সংস্কারের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করা।

দেশীয় সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করে সাশ্রয়ী, নির্ভরযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ ব্যবস্থা গড়ে তোলা উপর জোর দেয়া হয়েছে। প্রস্তবনায় বলা হয়, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বাবিউবো) বিদ্যুতের পাইকারি (বাল্ক) ও খুচরা মূল্যহার, পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি (পিজিবিপিএলসি) বিদ্যুতের সঞ্চালন মূল্যহার এবং বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (বাপবিবো), ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ডিপিডিসি), ঢাকা ইলেক্ট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেড (ডেসকো), ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ওজোপাডিকো) ও নর্দান ইলেক্ট্রিসিটি সাপ্লাই পিএলসি (নেসকো) বিদ্যুতের খুচরা মূল্যহার পরিবর্তনের জন্য কমিশনে প্রস্তাব দাখিল করে। সে প্রস্তাবের ওপর গত ২০-২১ মে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। প্রস্তাবের বিষয়ে কমিশনের সিদ্ধান্ত কমিশন কার্যালয়ের শুনানি কক্ষে ঘোষণা করা হবে। বাড়তি খরচের নতুন ধাক্কা আসছে বিদ্যুৎ গ্রাহকদের ওপর। আগামীকাল বুধবার বিদ্যুতের নতুন মূল্য ঘোষণা করতে পারে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ১৫ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে। তবে স্বল্প আয়ের গ্রাহকদের জন্য চালু থাকা ‘লাইফ লাইন’ সুবিধায় আপাতত কোনো পরিবর্তন আনা হচ্ছে না। বিইআরসির ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না শর্তে বলেন, বুধবার সকাল ১১টায় কমিশনের কারিগরি কমিটির বৈঠকে ইউনিটপ্রতি মূল্যবৃদ্ধির হার চূড়ান্ত করা হবে। এরপর বিকেলের দিকে বিদ্যুতের নতুন ট্যারিফ ঘোষণা করা হতে পারে। বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ ইনকিলাবকে বলেন, কারিগরি কমিটি বিষয়টি নিয়ে কাজ চলছে এবং আজ এ বিষয়ে ঘোষণা আসতে পারে।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শর্ত পূরণের অংশ হিসেবেই বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা বলছেন। দুই মাস আগে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত একটি মন্ত্রিসভা কমিটি ইউনিটপ্রতি ১ থেকে ১.৫০ টাকা পর্যন্ত দাম বাড়ানোর সুপারিশ করে। সেই সুপারিশ অনুযায়ী বিইআরসির মাধ্যমে মূল্য সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত ২০ ও ২১ এপ্রিল অনুষ্ঠিত বিইআরসির গণশুনানিতে দেশের ছয়টি বিদ্যুৎ বিতরণ কম্পানি খুচরা পর্যায়ে ইউনিটপ্রতি ৮৫ পয়সা থেকে ২ টাকা ৫ পয়সা পর্যন্ত দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়। বিপিডিবি ৮৫ পয়সা, আরইবি ১ টাকা ৭৭ পয়সা, ডিপিডিসি ১ টাকা ৫৪ পয়সা, ডেসকো ১ টাকা ৯৮ পয়সা, ওজোপাডিকো ১ টাকা ৩৯ পয়সা এবং নেসকো ২ টাকা ৫ পয়সা বৃদ্ধির প্রস্তাব করে। তবে বিইআরসির কারিগরি দল গড়ে ইউনিটপ্রতি ১ টাকা ২৫ পয়সা মূল্যবৃদ্ধির সুপারিশ করেছে। কমিশন সেই সুপারিশ গ্রহণ করতে পারে বলে জানা গেছে।

গণশুনানিতে ভোক্তাদের পক্ষ থেকে লিখিত বক্তব্য দিয়েছে ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। এটি পড়ে শোনানো হয় শুনানিতে। এতে বিদ্যুতের দাম না বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, বিদ্যুৎ খাতে অদক্ষতা, সিস্টেম লস, বিলম্বিত প্রকল্প, অতিরিক্ত ও লুণ্ঠনমূলক ব্যয় এবং ক্যাপাসিটি চার্জের (বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভাড়া) বোঝা সাধারণ ভোক্তার ওপর চাপানো উচিত নয়।
শুনানীতে ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলম বলেন, বর্তমান কমিশনের প্রতি অনাস্থা জানিয়ে তিনি শুনানি বর্জন করেছেন। তবে শুনানিতে অধিকাংশ বক্তার কণ্ঠে বারবার এসেছে তাঁর নাম। দেড় দশক ধরে গণশুনানিতে নিয়মিত হাজির হয়ে ভোক্তাদের পক্ষ থেকে প্রস্তাবের চুলচেরা বিশ্লেষণ করার দরকার।

গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর বিভাগ থেকে বলা হয়, সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করে নবায়নযোগ্য সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবসায় নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে ২০৩৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত অর্জিত আয়ের ওপর আয়কর অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত রয়েছে। ১ জুলাই ২০২৬ থেকে যা কার্যকর করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। কর অব্যাহতি পেতে হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে কিছু শর্ত মানতে হবে। নিজস্ব অর্থায়ন ও ব্যবস্থাপনায় সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করতে হবে এবং প্রতিটি কেন্দ্রের জন্য নেট মিটারিং নির্দেশিকা-২০২৫ অনুযায়ী যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অনুমোদন নিতে হবে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানগুলোকে আয়কর আইন ২০২৩-এর আওতায় সব বিধান মেনে চলতে হবে।

কর সু্বধিা পেতে হলে উৎপাদিত সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনকারী ও ব্যবহারকারীর মধ্যে সম্পাদিত নির্দিষ্ট পাওয়ার পারচেজ অ্যাগ্রিমেন্ট (পিপিএ) অনুযায়ী ব্যবহারকারীকে সরবরাহ করতে হবে। অতিরিক্ত বিদ্যুৎ থাকলে তা নেট-মিটারিং ব্যবস্থার মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে হবে। তবে এখাতে উৎসে কর কর্তনের বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হতে পারে। আয়কর আইনের বিধান অনুযায়ী প্রযোজ্য ক্ষেত্রে উৎসে কর কেটে তা সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে। অন্যদিকে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও বিশেষ কর রেয়াত সুবিধা ঘোষণা করা হবে। কোনো প্রতিষ্ঠান সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদিত বিদ্যুৎ ব্যবহার করলে, তাদের মোট ব্যবহৃত সৌরবিদ্যুতের বিপরীতে পরিশোধিত বিদ্যুৎ বিলের ৫ শতাংশ সমপরিমাণ অর্থ মোট প্রদেয় আয়করের বিপরীতে কর রেয়াত হিসেবে পাওয়া যাবে।

বর্তমানে সৌর বিদ্যুৎ স্থাপনে ব্যবহৃত অধিকাংশ যন্ত্রাংশের ওপর ২৫ শতাংশ থেকে শুরু করে প্রায় ৯০ শতাংশ পর্যন্ত করভার আরোপিত আছে। যা এই খাতের বিকাশে বড় বাধা। সোলার পিভি মডিউল, ফোটোভোল্টাইক সেল এবং সোলার ইনভার্টারের মতো মূল যন্ত্রাংশে যথাক্রমে প্রায় ২৬.৯০ শতাংশ, ২৫.৭৫ শতাংশ এবং ২৮.৭৩ শতাংশ শুল্ক-কর বিদ্যমান রয়েছে। একইভাবে ডিসি কেবল ও মাউন্টিং স্ট্রাকচারের (অ্যালুমিনিয়াম) ওপর বিদ্যমান প্রায় ৫৮.৪০ শতাংশ শুল্ক-কর। এছাড়া সোলার প্ল্যান্ট পরিচালনায় ব্যবহৃত মনিটরিং ইউনিট বা ডাটা লগার, সার্কিট বোর্ড (বিএমএস) এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক পণ্যের ওপর বর্তমান ৩১ থেকে ৩৭ শতাংশের বেশি করহার রয়েছে। বিশেষ করে ব্যাটারি প্যাক (রেডিমেড) ও ব্যাটারি সেলের মতো গুরুত্বপূর্ণ উপাদানের ওপরও ৫৮.৪০ শতাংশ শুল্ক-কর আরোপ করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *