
নব্বই দশকের বাংলা সিনেমার রূপকথার নায়ক তিনি, যার এক ঝলকে বদলে যেত পর্দা, আর দর্শকদের হৃদয়ে জন্ম নিত প্রেম—তিনি সালমান শাহ্। প্রিয় নায়কের অকালমৃত্যুতে এখনো যাপিত জীবনের বিষণ্ণ স্মৃতি হয়ে আছে অগণিত ভক্তের মন। ঠিক সেই চিরচেনা আবেগকে ঘিরেই এবার নির্মিত হচ্ছে একটি বিশেষ টেলিছবি— ‘টকিজ ঘর’।
এটি সামান্য কোন নাটক নয় বরং একটি একটি সময়কে ছুঁয়ে যাওয়া গল্প। গ্রামবাংলার সেই দিনগুলোতে ফিরে যাওয়ার গল্প, যখন সন্ধ্যা নামার আগেই পাড়া জড়ো হতো ব্যাটারিচালিত টেলিভিশনের সামনে, ভিসিআর-এর স্ক্রিনে সালমান শাহ্-কে দেখার জন্য। সেইসব স্মৃতির ক্যানভাসেই আঁকা হয়েছে ‘টকিজ ঘর’-এর কাহিনি—দুই তরুণ, এক সিনেমার আসক্তি, আর ভালোবাসা ও বাস্তবতার দ্বন্দ্বে গড়ে ওঠা এক গল্প।
পরিচালনায় কামরুজ্জামান পুতুল, যিনি নিজেই এর চিত্রনাট্য লিখেছেন। তাঁর ভাষায়, “ভিসিআর দেখা ছিল যেন এক উৎসব। আর সালমান শাহ্ ছিলেন সেই উৎসবের প্রাণ। সেই দিনগুলো পর্দায় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছি।”
জানা যায়, টেলিসিনেমাটির শুটিং শুরু হচ্ছে ঈদুল আজহার পরপরই,ঢাকার অদূরে মানিকগঞ্জ জেলার একটি মনোরম লোকেশনে। চলছে প্রস্তুতির কাজ—প্রি-প্রোডাকশন ও শিল্পী নির্বাচন পুরোদমে এগোচ্ছে।
এসময় পুতুল আরও জানান, “এই টেলিছবিতে আমরা শুধু সালমান শাহ্-কে স্মরণ করবো না, বরং তার সিনেমা কীভাবে তরুণ সমাজে প্রেম, সাহস ও স্বপ্নের অনুপ্রেরণা ছিল—সেই প্রভাবটিও তুলে ধরবো। এটি হবে এক যুগান্তকারী সময়ের প্রতিচ্ছবি।”
সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ৬ই সেপ্টেম্বর, সালমান শাহ্-র মৃত্যুবার্ষিকীতেই টেলিভিশনের পর্দায় আসবে ‘টকিজ ঘর’। যারা এখনো সালমান শাহ্-কে হৃদয়ের আসনে বসিয়ে রেখেছেন, তাদের জন্য এটি হতে যাচ্ছে এক আবেগঘন ও সোনালি অতীতে ফিরে যাওয়ার স্মরণীয় যাত্রা।
