সউদীর পরিচালনায় দ্বিগুণ শক্তিতে ফিরলো পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল

জাতীয়

সউদী আরবভিত্তিক শীর্ষস্থানীয় পোর্ট অপারেটর রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল (আরএসজিটি) চট্টগ্রাম বন্দরের অধীনে নির্মিত পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালে (পিসিটি) আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করেছে। এখন থেকে পূর্ণ সক্ষমতায় পরিচালিত হচ্ছে টার্মিনালটি। আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে বাংলাদেশের পণ্য আমদানি-রপ্তানির প্রধান প্রবেশদ্বার এবং বঙ্গোপসাগরের সবচেয়ে ব্যস্ততম বন্দর হলো এই চট্টগ্রাম বন্দর।

২০২৩ সালে পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল উন্নয়ন ও পরিচালনার জন্য আরএসজিটি-এর সাথে ২২ বছরের একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সংস্থাটি জানায়, তারা এই টার্মিনালে ১৭ কোটি মার্কিন ডলার (১৭০ মিলিয়ন ডলার) বিনিয়োগ করেছে, যা প্রতিষ্ঠানটির আন্তর্জাতিক ব্যবসার প্রসারে অন্যতম বড় একটি মাইলফলক।

.

টার্মিনালের আধুনিকায়নের ফলে ২০২৪ সালের আড়াই লাখ টিইইউ কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বেড়ে বর্তমানে ৬ লাখ টিইইউতে উন্নীত হয়েছে। নতুন ৪টি অত্যাধুনিক শিপ-টু-শোর (এসটিএস) ক্রেন সংযোজনের মাধ্যমে অপারেশনাল গতি বাড়ানো হয়েছে। আরএসজিটি-এর মতে, এটি আঞ্চলিক অন্যান্য টার্মিনালের তুলনায় কর্মদক্ষতা ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি করবে।

.

চলতি বছরেই এই টার্মিনালে প্রায় ৪ লাখ টিইইউ কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা চট্টগ্রাম বন্দরের মোট কনটেইনার কার্যক্রমের প্রায় ১২ শতাংশ।

দেশের সামুদ্রিক বাণিজ্যে নতুন দিগন্ত

বাংলাদেশে ২০১৭ সালে গৃহীত সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) নীতির অধীনে এটিই প্রথম কোনো বেসরকারি বন্দর পরিচালনা চুক্তি। বৈদেশিক বিনিয়োগের পথ সুগম করতে সরকার এই নীতি গ্রহণ করার পর, ২০১৯ সালে প্রথম পোর্ট অপারেটর হিসেবে আরএসজিটি বাংলাদেশ সরকারের সাথে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করে।

পতেঙ্গা টার্মিনাল চালুর পর আরএসজিটি বাংলাদেশের বন্দর ও লজিস্টিক খাতে আরও ১ বিলিয়ন (১০০ কোটি) মার্কিন ডলার অতিরিক্ত বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

বাংলাদেশ যখন বন্দর অবকাঠামোতে বিদেশী বিনিয়োগকে স্বাগত জানাচ্ছে, ঠিক তখনই চট্টগ্রাম বন্দরের অদূরে একটি প্রস্তাবিত জাহাজ নির্মাণ সুবিধাকে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে সরকার। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে প্রায় ৬২ মাইল দক্ষিণে নির্মাণাধীন মাতাবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দরের পাশেই গড়ে উঠবে ‘মাতাবাড়ি ডকইয়ার্ড’।

এই প্রকল্পে অস্ট্রেলিয়া ভিত্তিক এআইএস মেরিন অর্থায়ন করবে এবং কারিগরি অংশীদার হিসেবে থাকবে চায়না হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি। প্রাথমিক অনুমোদনের পর প্রস্তাবটি পরবর্তী পর্যালোচনার জন্য পিপিপি কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।

সম্প্রতি সংসদে নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানান, তাঁর মন্ত্রণালয় জাহাজ নির্মাণ খাতকে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাত হিসেবে ঘোষণার পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। এই মর্যাদা পেলে দেশীয় শিপইয়ার্ডগুলো শুল্ক সুবিধা ও দীর্ঘমেয়াদী কর অবকাশ সুবিধা পাবে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, প্রয়োজনীয় সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশীয় শিপইয়ার্ডগুলো মাঝারি আকারের জাহাজের বৈশ্বিক চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *