সংবাদ সম্মেলনে মেঘমল্লার, ঝুঁকি এখনও কাটেনি – ডাকসু

জাতীয় শিরোনাম

খবর ৫২ ডেস্ক

চলতি মাসের শুরু থেকে ডাকসু নির্বাচনের প্রচারণায় অনুপস্থিত ছিলেন ডাকসু নির্বাচনে বাম জোট সমর্থিত প্রতিরোধ পর্ষদের জিএস পদপ্রার্থী মেঘমল্লার বসু। কারণ ২ সেপ্টেম্বর থেকে একাধিক অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছিল তাকে। ঝুঁকি এখনও কাটেনি। ডাক্তারদেরও বারণ আছে। তবে সেসবকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে মেঘমল্লার হাজির হয়েছেন ডাকসু নির্বাচনের প্রচারণার শেষ দিনে, হাসপাতাল থেকে বেরোনোর ৩০ মিনিট পরই হাজির হয়েছেন সংবাদ সম্মেলনে। 

গত ১ সেপ্টেম্বর মেঘমল্লার ভর্তি হন হেলথ অ্যান্ড হোপ নামের একটি প্রাইভেট হাসপাতালে। এরপর জানা যায় যে তার অ্যাকিউট অ্যাপেন্ডিসাইটিস আছে। ল্যাপরোস্কপি করলে সাধারণত একজন মানুষ দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে চলাফেরা করতে সক্ষম হন। তবে মেঘমল্লারের ফুসফুস জনিত সমস্যা থাকার কারণে সেটি সম্ভব হয়নি। এদিকে অ্যাকিউট অ্যাপেন্ডিসাইটিসের অস্ত্রোপচারের সময় আবিষ্কৃত হয় যে, তার অন্ত্রে একটি সিস্ট আছে। মেডিক্যাল সাইন্সের ভাষায় যার নাম মেকেল ডাইভার্টিকুলাম। সে সিস্টের অস্ত্রোপচার করার সময় আবার আরও অনেকগুলো সিস্ট পাওয়া যায়, সঙ্গে দেখা যায় তার লিম্ফনোডগুলোও ফুলে গেছে। সেসবের অস্ত্রোপচারও করাতে হয়েছে তাকে।

সে অস্ত্রোপচারের পর যে বিশ্রাম প্রয়োজন, তা নেননি তিনি। তার আগেই চলে গেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। মেঘমল্লারের ভাষায়, ‘সাধারণত এই সার্জারির ক্ষেত্রে ইনফেকশনের সম্ভাবনা প্রথম ৫ দিন থাকে, আজকে আমার পঞ্চম দিন চলছে। আমার রিস্ক পিরিয়ড শেষ হয়নি। প্রথম দশ থেকে বারো দিন বেড রেস্টে থাকা ডাক্তারদের নিয়ম। আমি একরকম ডাক্তারদের অমতেই শারীরিকভাবে সক্ষম হওয়ায় এখানে চলে এসেছি। এটি অন্য কোনো বড় পরিবর্তন ঘটাবে কি না তা আমরা জানি না।’ 

মেঘমল্লার অনুপস্থিত থাকার পরও প্রতিরোধ পর্ষদের প্রচারণা থামেনি। পুরোদমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে চলেছে তাদের প্রচারণা। তিনি জানান, সহযোদ্ধাদের এমন প্রচারণার প্রতি সম্মান জানাতেই এই ঝুঁকি নিয়েছেন তিনি। তার কথা, ‘আমার আসার জায়গাটা খুব সিম্পল। আমার সহযোদ্ধারা, আমার অবর্তমানে আমার হয়ে গত ৫ দিন যে লড়াই করে গেছেন, যেভাবে শেষ মানুষটি পর্যন্ত যে প্রচারণা, সে প্রচারণা পৌঁছে দিয়েছেন, সে কৃতজ্ঞতার জায়গা থেকে, সহযোদ্ধার জায়গা থেকে আজ আমি উপস্থিত হয়েছি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে। আমার উপস্থিতিতে আমার সহযোদ্ধাদের মনে যদি এক ফোঁটা অনুপ্রেরণা যোগায় সেটা হবে বিশাল প্রাপ্তি। সে সাহস যেন যোগাতে পারি, সে জায়গা থেকে আসলে এই ঝুঁকিটি নেওয়া।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *