শিক্ষার মাঠে নয়, আন্দোলনে সরব শিক্ষক-শিক্ষার্থী

জাতীয়

খবর ৫২

দেশের শিক্ষাঙ্গনে বর্তমানে এক চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা ক্লাসরুমের চেয়ে আন্দোলনের মাঠে বেশি সক্রিয়। বেতন-ভাতা, পদোন্নতি, ছাত্র সংসদ নির্বাচন, এবং অবকাঠামোসহ বিভিন্ন দাবিতে তারা রাজপথে নেমেছেন। শিক্ষা প্রশাসন এবং মাঠ পর্যায়ের মনিটরিং ব্যবস্থাও দুর্বল হওয়ায় সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থা থমকে আছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

উচ্চ শিক্ষা: আন্দোলনে জর্জরিত ক্যাম্পাস

বিভিন্ন তুচ্ছ ঘটনা থেকে শুরু করে গুরুতর ইস্যুতে প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছেন। এর মধ্যে রয়েছে:

  • বুয়েটসহ অন্যান্য প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা: ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের নামের আগে ‘প্রকৌশলী’ লেখার প্রতিবাদসহ তিন দফা দাবিতে শাহবাগে বিক্ষোভ করেছেন।
  • বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলন: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন চলছে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সম্প্রতি তাদের উপাচার্যকে আট ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রেখেছিলেন।
  • অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি: রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয় এবং বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ ও অবকাঠামো উন্নয়নের দাবিতে আন্দোলন করছেন।

প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা: জাতীয়করণের দাবি

প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষকরাও বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলন করছেন।

  • এমপিওভুক্ত শিক্ষক: বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের দাবিতে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা সরকারকে আলটিমেটাম দিয়েছেন। আগামী ১৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে ১৫ ও ১৬ সেপ্টেম্বর পূর্ণ দিবস কর্মবিরতি পালন করা হবে।
  • প্রাথমিক শিক্ষক: সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা ১১তম গ্রেডে বেতনসহ তিন দফা দাবিতে ৩০শে আগস্ট ঢাকায় মহাসমাবেশ ডেকেছেন।
  • শিক্ষা কর্মকর্তারা: প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসাররাও তাদের পদ দশম থেকে নবম গ্রেডে উন্নীতকরণের দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন।

শিক্ষা প্রশাসনের দুর্বলতা ও পাঠ্যবই সংকট

শিক্ষা প্রশাসনের দুর্বলতা ও দুর্নীতি শিক্ষার মান আরও খারাপ করে তুলছে। বিভিন্ন দপ্তরে মহাপরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে ক্ষমতার দাপট ও অভ্যন্তরীণ কোন্দল চলছে। ফলে মনিটরিং প্রায় হচ্ছে না বললেই চলে।

এছাড়া, পাঠ্যবই নিয়েও বড় ধরনের জটিলতা দেখা দিয়েছে। চলতি বছর বই পেতে দেরি হয়েছিল, আর আগামী বছরও যথাসময়ে বই পাওয়ার সম্ভাবনা কম। ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির বই ছাপার অনুমোদন বাতিল হওয়ায় আবারও দরপত্র আহ্বান করতে হবে, যা যথাসময়ে বই ছাপার কাজ শেষ করা কঠিন করে তুলবে।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে. চৌধূরী এই পরিস্থিতি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে বলেন, “মনে হচ্ছে, শিক্ষা অগ্রাধিকার থেকে ছুটে গেছে। শিক্ষাব্যবস্থাকে শুধু পুনর্গঠন নয়, রূপান্তর করা প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের শুধু পরীক্ষার্থী নয়, নীতিমান মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *