
রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানে ২০২৫ সালের মধ্যে ৮১ মিলিয়ন ডলার প্রয়োজন: তহবিল ঘাটতিতে খাদ্যবরাদ্দ বিপন্ন
বর্তমান তহবিল সংকটের কারণে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) রোহিঙ্গাদের জন্য খাবারের বরাদ্দ অর্ধেক কমানোর পরিকল্পনা করছে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে প্রতি ব্যক্তির মাথাপিছু মাসিক খাদ্য সহায়তা ১২.৫ ডলার থেকে কমে দাঁড়াবে মাত্র ৬ ডলার। এর ফলে প্রতি বেলার খাবারের বরাদ্দ বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৬ টাকা থেকে কমে হবে মাত্র ৮ টাকা।
খাদ্য সহায়তা কমানোর কারণ
ডব্লিউএফপি’র মুখপাত্র কুন লি জানিয়েছেন, বর্তমানে রোহিঙ্গাদের জন্য প্রতি মাসে ১৫ মিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হয়। কিন্তু মানবিক সহায়তার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক অনুদানের ঘাটতির কারণে এই তহবিল জোগাড় করা সম্ভব হচ্ছে না। এ মাসের মধ্যে ১৫ মিলিয়ন ডলার জোগাড় করতে না পারলে পয়লা এপ্রিল থেকে খাবারের বরাদ্দ অর্ধেক কমানো হবে।

আন্তর্জাতিক অনুদানের ঘাটতির পেছনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্তও একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। ট্রাম্প প্রশাসন ইউএসএআইডি (USAID)-এর তহবিল বন্ধের ঘোষণা দেওয়ার পর থেকে খাদ্য খাতে যুক্তরাষ্ট্রের অবদান কমে গেছে। এই খাতে যুক্তরাষ্ট্রের অবদান ছিল মোট অনুদানের ৮০ শতাংশেরও বেশি। এই ঘাটতির প্রভাব এখন রোহিঙ্গা সংকটের ওপর পড়ছে।
প্রভাব ও সম্ভাব্য পরিণতি
খাদ্য সহায়তা কমানোর প্রভাব কেবল অপুষ্টি ও খাদ্য সংকটেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। বিশ্লেষকেরা সতর্ক করছেন যে, এর ফলে শিবিরে অপরাধ প্রবণতা বাড়তে পারে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি ঘটতে পারে। এছাড়াও, পুষ্টি সংকটের কারণে রোহিঙ্গা শিশুদের মধ্যে দৈহিক ও মানসিক বিকাশের উপর গভীর প্রভাব পড়তে পারে।
সরকার ও দাতাদের পদক্ষেপ
বাংলাদেশ সরকার এবং আন্তর্জাতিক দাতারা এই সংকট মোকাবেলায় কাজ করছেন বলে জানিয়েছেন রোহিঙ্গা সমস্যা ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিষয়াবলী সংক্রান্ত প্রধান উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমানের কার্যালয়। তবে বাস্তবে কতটা সফল হচ্ছেন তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। ২০২৪ সালের মার্চে বাংলাদেশ সরকারের নেতৃত্বে “জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যান” (JRP) উদ্বোধন করা হলেও বছরটিতে কেবল ৭০ শতাংশ অনুদান পাওয়া গেছে।
ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ
রোহিঙ্গাদের জন্য খাদ্য সহায়তা কমানোর সিদ্ধান্ত শুধু মানবিক সংকটের দিক থেকেই গুরুতর নয়, বরং এটি বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠাকেও প্রভাবিত করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সংকট মোকাবেলার জন্য সরকারকে টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান খুঁজে বের করতে হবে। তবে এই প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও অনুদানের গুরুত্ব অপরিসীম।
সংকটের পটভূমি
- রোহিঙ্গা শরণার্থী: বর্তমানে বাংলাদেশে ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বসবাস করছে, যার বেশিরভাগই ২০১৭ সালে মিয়ানমারের সহিংসতার ফলে পালিয়ে আসে।
- গত বছর: ২০২৩ সালে প্রায় ৭০ হাজার রোহিঙ্গা মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।
- অর্থনৈতিক চাপ: বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ রোহিঙ্গাদের চাহিদা মেটাতে ৮১ মিলিয়ন ডলার প্রয়োজন।
এই সংকট মোকাবেলায় সরকার ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের যৌথ প্রচেষ্টা ছাড়া সমাধান খুঁজে পাওয়া সম্ভব নয়।
