
ভয়ানক ঘটনা! ১২ বছরের মেয়ের হাতে মাথার খুলিতে গর্ত করার ড্রিল মেশিন তুলে দিল সার্জন বাবা। তা দিয়ে রোগীর মাথায় গর্তও করেছে সেই মেয়েটি। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে অস্ট্রিয়ায়। ওই সার্জনের কীর্তিতে স্তম্ভিত সকলে।
জানা গিয়েছে স্ট্রিয়ার গ্রাজ আঞ্চলিক হাসপাতালে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে শিউরে ওঠার মত এই ঘটনাটি ঘটেছে। পেশায় একজন কৃষক মস্তিষ্কে গুরুতর আঘাত নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। মস্তিষ্কের আঘাতের কারণে করা হয় অস্ত্রোপচার। সেই সময়ে সার্জন তার ১২ বছরের মেয়েকে অপারেশন থিয়েটারে ঢুকতে দেন এবং পরবর্তীতে তাকে ওই রোগীর খুলিতে একটি গর্ত খুঁড়তে অনুমতি দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সেই অভিযোগেরভ ভিত্তিতে ওই চিকিৎসককে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তিনি ফৌজদারি মামলার সম্মুখীন হয়েছেন।
জানা গিয়েছে, ৩৩ বছর বয়সী ওই রোগীর উপর দুইজন চিকিৎসক অস্ত্রোপচার করেন। একজন ছিলেন চিকিৎসক ডাক্তার এবং অন্যজন সিনিয়র ফিজিসিয়ানক। আরেকজন ছিলেন নিউরোসার্জন তবে তিনি প্রশিক্ষণে ছিলেন। সেই সময়েই অভিযুক্ত সার্জন তার ১২ বছর বয়সী মেয়েকে অস্ত্রোপচার রুমে অর্থাৎ ওটিতে নিয়ে আসেন। অভিযোগ, অপারেশন প্রায় সম্পন্ন হওয়ার পর, তিনি তার মেয়েকে রোগীর খুলিতে একটি গর্ত খুঁড়তে অনুমতি দেন। বাবার কথা মত মেয়েও সেই কাজ করে। এমনকি পরে তিনি নার্সদের কাছে গর্ব করে বলেন যে তার মেয়ে প্রথম ‘স্ত্রীরোগ সংক্রান্ত হিস্টেরেক্টমিও’ করেছেন।
সেই ঘটনার পর বেশ কয়েকজন চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের পর তদন্ত শুরু হয়। যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওই চিকিৎসক। অভিযোগ দায়েরর পর প্রসিকিউটর জুলিয়া স্টেইনার বলেছেন যে ঘটনাটি “রোগীর প্রতি অবিশ্বাস্য অসম্মান” প্রদর্শন করে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “যদি ড্রিলটি ত্রুটিপূর্ণ হত এবং খুলির হাড় ভেঙে যাওয়ার পরে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ না হত তবে কী হত?” অভিযোগ প্রসঙ্গে জোর দিয়ে বলেন যে, “ঝুঁকিকে ছোট করে দেখা যাবে না”।
