
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের তরফে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে সুপারিশমালা পাঠানো শুরু হয়েছে। ৫০টি দলের কাছে এই সুপারিশমালা পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। মঙ্গলবার জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের এক বৈঠকে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে প্রস্তাবনা পাঠানোর এই সিদ্ধান্ত হয়। কমিশনের অন্যতম সদস্য ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, আমরা আশা করছি রাজনৈতিক দলগুলো দ্রুততম সময়ের মধ্যেই তাদের অবস্থান পরিস্কার করবে। কোনো ভিন্ন অবস্থান থাকলে সেটি কমিশনকে জানাবে।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, রাজনৈতিক দলগুলোকে এক সপ্তাহ সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে। উল্লেখ্য যে, এর আগে ছয়টি কমিশনের পক্ষ থেকে যেসব সুপারিশমালা এসেছে তা নিয়ে সংশ্লিষ্টরা এর নানাদিক পর্যালোচনা করেছেন। এরপরেই তারা রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে এসব সুপারিশ পাঠানোর ব্যাপারে একমত হন।
গত ১৫ই ফেব্রুয়ারি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে আলোচনায় গুরুত্ব পায় জুলাই-আগস্ট চার্টার। বৈঠকে বিএনপি’র পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষ করে দ্রুতই নির্বাচন আয়োজনের তাগিদ দেয়া হয়। বৈঠক শেষে তখন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক প্রশ্নের জবাবে বলেছিলেন, ‘পরিষ্কার বলেছি যে, জাতীয় সংসদ নির্বাচন সবার আগে হতে হবে। তারপরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে’।
ওই বৈঠকে রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে জাতীয় ঐক্য বজায় রাখার তাগিদ দেয়া হয়। আওয়ামী লীগের বিচার, গণহত্যায় জড়িতদের শাস্তি ও আওয়ামী লীগের দোসরদের প্রশাসনসহ গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে সরিয়ে দেয়ার বিষয়ে আলোচনা হয় ।
এদিকে বিএনপি দলীয়ভাবে আলাদা আলাদা সংস্কার প্রস্তাব তৈরির জন্য ছয়টি কমিটি গঠন করেছিল। সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করছে সংশ্লিষ্ট এই কমিটি।
উল্লেখ্য, গত ১৫ ফেব্রুয়ারি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠকের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। এই কমিশনের সভাপতি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সহ-সভাপতি হিসেবে রয়েছেন সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান ড. আলী রীয়াজ। সমন্বয়ক হিসেবে আছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐকমত্য) মনির হায়দার।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত হয় অন্তর্বর্তী সরকার। এরপর গত বছরের অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে সংবিধান, নির্বাচনব্যবস্থা, জনপ্রশাসন, পুলিশ, দুর্নীতি দমন কমিশন ও বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়। গত ফেব্রুয়ারি মাসে এই ছয়টি কমিশন তাদের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এসব কমিশনের প্রধানদের নিয়ে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন কাজ করছে।
