ঢাকা, ১৩ জুলাই ২০২৫:
জরুরি অবস্থাকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার রোধে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজনৈতিক দলগুলো। নতুন বিধান অনুযায়ী, এখন থেকে জরুরি অবস্থা ঘোষণার জন্য শুধুমাত্র রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরই যথেষ্ট হবে না, প্রয়োজন হবে মন্ত্রিসভার লিখিত অনুমোদন।
রোববার (১৩ জুলাই) ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের দ্বিতীয় ধাপের ১২তম দিনের সংলাপে এই ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়।
প্রধান সংশোধনীসমূহ:
- মন্ত্রিসভার অনুমোদন বাধ্যতামূলক: জরুরি অবস্থা ঘোষণার পূর্বে মন্ত্রিসভার লিখিত সম্মতি প্রয়োজন হবে
- সময়সীমা হ্রাস: বিদ্যমান ১২০ দিনের পরিবর্তে সর্বোচ্চ ৯০ দিনের জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা যাবে
- অধিকার সুরক্ষা: জরুরি অবস্থায়ও নাগরিকদের জীবনধারণ ও মানবিক মর্যাদার অধিকার অলঙ্ঘনীয় থাকবে
- বিরোধী দলের অংশগ্রহণ: মন্ত্রিসভার বৈঠকে সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা/নেত্রী বা উপনেতার উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে
আলোচনায় উল্লেখযোগ্য প্রস্তাবসমূহ:
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক সর্বদলীয় বৈঠকের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রস্তাব দেন। অন্যদিকে, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ ও জামায়াতে ইসলামী বিরোধীদলকে মন্ত্রিসভার আলোচনায় যুক্ত করার পরামর্শ দেয়। বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদ এই প্রস্তাবকে সমর্থন জানান।
বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়ন:
সাংবিধানিক বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক বলেন, “এই সংশোধনী রাজনৈতিক সংকটকালে সরকারের একতরফা সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রবণতা রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। মন্ত্রিসভা ও বিরোধী দলের সমন্বয়ে গৃহীত সিদ্ধান্ত অধিকতর অন্তর্ভুক্তিমূলক হবে।”
পরবর্তী পদক্ষেপ:
এই সংশোধনী বাস্তবায়নের জন্য সংবিধানের ১৪১(ক) অনুচ্ছেদে প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলি সংসদে উত্থাপন করা হবে। সংশোধিত প্রস্তাব অনুযায়ী:
- “রাষ্ট্রপতির নিকট যদি সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হয় যে, যুদ্ধ, বহিঃআক্রমণ, রাষ্ট্রীয় অখণ্ডতায় হুমকি, মহামারি বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে জরুরি অবস্থা বিদ্যমান, তাহলে তিনি মন্ত্রিসভার লিখিত অনুমোদনসহ সর্বোচ্চ ৯০ দিনের জন্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে পারবেন।”
