রাগ ভাঙাতে শাকিব খানই এগিয়ে আসেন: বুবলী

বিনোদন

ঢালিউড ইন্ডাস্ট্রির জনপ্রিয় নায়ক শাকিব খান। তবে কেবল অভিনয় দিয়েই নয়, নিজের ব্যক্তিগত জীবনের নানা ইস্যুতে প্রায়ই সংবাদ শিরোনামে থাকেন তিনি। সম্প্রতি এই অভিনেতা প্রথমবারের মতো কন্যাসন্তানের বাবা হয়েছেন। শাকিব-বুবলীর সংসারে গত ১১ মে জন্ম নিয়েছে তাদের দ্বিতীয় সন্তান শারলিন খান। 

যদিও এ নিয়ে জল্পনা কম ছড়ায়নি। কয়েক মাস আগেই শোবিজ অঙ্গনে যখন শবনম বুবলীর মা হওয়ার গুঞ্জন রটে, তখনই অভিনেত্রীর সঙ্গে কোনো রকম যোগাযোগ নেই বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন শাকিব। ফলে হিসেব মেলানোটা বেশ কঠিনই হচ্ছিল। এরই মধ্যে শুক্রবার (৫ জুন) তাদের বাবা-মা হওয়ার সুখবরটি এক ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে প্রকাশ করেন বুবলী। 

এদিকে কয়েক বছর আগে সাবেক স্ত্রী অপু বিশ্বাস ও দ্বিতীয় স্ত্রী শবনম বুবলীর সঙ্গে শাকিব খানের ব্যাপক দূরত্ব দেখা যায়। গুঞ্জন ওঠে, দুজনের সঙ্গেই কোনো যোগাযোগ নেই; দ্বিতীয় স্ত্রী বুবলীর সঙ্গে বিচ্ছেদও নাকি হয়েছে তার। সে সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মুখ খুলেছিলেন শাকিব খানও। 

২০২২ সালের নভেম্বরের এক সাক্ষাৎকারে সংসার-জীবন নিয়ে ঢাকাই সিনেমার এই সুপারস্টার জানিয়েছিলেন, অপু বিশ্বাস অথবা বুবলী দুজনই তার অতীত। কোনো রকমের যোগাযোগ নেই তাদের মধ্যে। শুধু সন্তানদের খোঁজ-খবর নেওয়ার ক্ষেত্রে যতটুকু দেখাশোনা প্রয়োজন ওইটুকুতেই সবকিছু সীমাবদ্ধ। 

তবে পরবর্তীতে এক সাক্ষাৎকারে বুবলীর বক্তব্য জন্ম দেয় নতুন আলোচনার। সেখানে তিনি জানান, বিচ্ছেদ নয়, বরং সময় নিয়ে সম্পর্ককে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন তারা। 

শাকিবের মন্তব্যের দুই বছর পর ২০২৪ সালে একটি বেসরকারি টেলিভিশনের এক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে সম্পর্ক নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন বুবলী। সে সময় তিনি জানান, তাদের বিচ্ছেদ হয়নি এবং ভুল বোঝাবুঝি কাটিয়ে ওঠার জন্য তারা সময় নিচ্ছেন। 

সেই সাক্ষাৎকারে বুবলী বলেছিলেন, ‘আমরা টাইম নিচ্ছি। আমাদের ডিভোর্স হয়নি। একটি দাম্পত্য সম্পর্কে অনেক ভুল-বোঝাবুঝি হয়। শেহজাদকে নিয়ে একা সংগ্রাম করছি। সেখান থেকে সন্তানের বাবা হিসেবে তাকে কখনো অসম্মান করিনি। আমি কখনোই আক্রমণ করিনি, বরং সব সময় কিছু হলে তার জবাব দিয়েছি। নীরব থেকেছি। ধৈর্য ধরে তার পাশে থেকেছি। আমাদের নিয়মিত দেখা হয়।’ 

তিনি আরও জানান, সময়ের সঙ্গে তাদের পারস্পরিক বোঝাপড়া আরও ভালো হয়েছে এবং একসঙ্গে কাটানো সময়ও উপভোগ করেন। 

বুবলী বলেছিলেন, ‘আমাদের দুজনের মধ্যে একটা মিল আছে, আমি যখন চুপচাপ থাকি তখন চুপচাপ। আবার পরিবারের সঙ্গে থাকলে খুব কথা বলি। শাকিব খান কিন্তু সেটে চুপচাপ থাকেন। আবার যখন বন্ধুমহলে থাকেন তখন খুব আড্ডাবাজ। বিষয়টি আসলে পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। যে কারণে একে অন্যকে বোঝাটা গুরুত্বপূর্ণ।’

দাম্পত্যজীবনের টানাপোড়েন প্রসঙ্গে বুবলী বলেছিলেন, মতবিরোধ হলেও তিনি ধৈর্যের পথই বেছে নিতেন। আর রাগ ভাঙানোর দায়িত্বটা নিতেন শাকিব খান।

তার ভাষায়, ‘শাকিবের রাগ প্রচুর। রেগে গেলে চুপ হয়ে যান, তবে প্রকাশ করেন না। বুঝে নিতে হয়। আমিও তখন চুপচাপ হয়ে যাই। তাকে বোঝাতে চেষ্টা করি। রাগটা সঠিক হলে বোঝাতে চাই। আর না হলে সময় নিই যে তিনি হয়তো বুঝতে পারবেন। আর উল্টো দিকে আমি সহজে রাগি না। খুব যৌক্তিকভাবে রাগ করি। রাগটা আসলে তেমন নয়, প্রতিক্রিয়া দেখাই। রাগ ভাঙাতে শাকিব খানই এগিয়ে আসেন। কারো দাম্পত্যজীবন সুখের হলে সেখানে অন্য কেউ ঢুকতে পারে না। যে কারণে আমি ধৈর্য ধরতে চাই।’ 

সেই সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী তাদের ছেলে শেহজাদ খান বীরের কথাও তুলে ধরেন। তিনি জানান, সন্তানের সুন্দর ভবিষ্যতের কথা ভেবেই তিনি সম্পর্ককে গুরুত্ব দিয়েছেন এবং ছেলে একা বড় হোক সেটা চাননি। 

উল্লেখ্য, গুঞ্জনকে সত্যি করে কিছু দিন আগেই দ্বিতীয়বার মা হওয়ার খবর সামনে এনেছেন অভিনেত্রী শবনম বুবলী। এরপর থেকেই শাকিব-বুবলী দম্পতির পুরোনো সাক্ষাৎকার নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *