
মার্কিন বাহিনী ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলায় আগ্রাসনে নৌবাহিনীর ইএ-১৮জি গ্রাউলার ইলেকট্রনিক অ্যাটাক এয়ারক্রাফট ব্যবহার করেছে। এই বিমানগুলো উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন জ্যামিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে দেশটির বহুমুখী বিমান প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্ককে পুরোপুরি অচল করে দেয়।
ভেনেজুয়েলার সামরিক কর্মকর্তাদের বিবৃতির মাধ্যমে বিষয়টি প্রথম প্রকাশ্যে আসে। তারা জানান যে, সুনির্দিষ্ট নিশানায় হামলা শুরু হওয়ার মাত্র কয়েক মিনিট আগে তাদের রাডার সিস্টেমগুলো পুরোপুরি ‘অন্ধ’ বা অকেজো হয়ে পড়েছিল।
ভেনেজুয়েলার রাডার অপারেটরদের বর্ণনা অনুযায়ী, এই আক্রমণ ছিল অত্যন্ত দ্রুতগতির। তারা জানান, হামলার ঠিক আগ মুহূর্তে ‘রাডারের সব মনিটরে হস্তক্ষেপ শুরু হয় এবং মনে হচ্ছিল যেন কেউ স্ক্রিনের ওপর এক মুঠো বালি ছুড়ে মেরেছে।’ তারা আরও জানান, মার্কিন অপারেশন শুরু হওয়ার সাথে সাথেই পুরো সিস্টেমটি অকেজো হয়ে পড়ে।
এই অভিযানে মার্কিন নৌবাহিনীর ক্যারিয়ার-ভিত্তিক ইএ-১৮জি গ্রাউলার ব্যবহার করা হয়েছে। এটি একটি বিশেষায়িত ইলেকট্রনিক অ্যাটাক এয়ারক্রাফট, যা শত্রুর রাডার দমন করতে, যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করতে এবং প্রতিপক্ষের নজরদারি ক্ষমতা কমিয়ে দিয়ে মূল হামলাকারী বিমানকে সহায়তা করতে সক্ষম।
উল্লেখ্য যে, ভেনেজুয়েলা দীর্ঘদিন ধরে তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে লাতিন আমেরিকার অন্যতম উন্নত নেটওয়ার্ক হিসেবে দাবি করে আসছিল। তাদের সংগ্রহে রাশিয়ার তৈরি বুক-এম২ই সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল সিস্টেম এবং চীনের তৈরি জেওয়াই-২৭ লং-রেঞ্জ রাডার ছিল। চীন দাবি করেছিল, এই রাডার এমনকি ‘এফ-৩৫’-এর মতো অদৃশ্যমান (স্টিল্থ) বিমানও শনাক্ত করতে সক্ষম।
হামলা পরবর্তী ছবিতে দেখা গেছে যে, ভেনেজুয়েলার রাডার স্টেশনগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে এবং বুক-এম২ই সিস্টেমের দুটি লঞ্চার ও একটি কমান্ড পোস্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভেনেজুয়েলার সামরিক প্রতিনিধিরা এই আক্রমণকে ‘অপ্রত্যাশিতভাবে দ্রুত’ বলে বর্ণনা করেছেন।
এই সফল আগ্রাসনের পর মার্কিন ‘সেক্রেটারি অফ ওয়ার’ পিট হেগসেথ মন্তব্য করেন: ‘‘মনে হচ্ছে রাশিয়ার তৈরি ওই বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলো ঠিকঠাক কাজ করেনি, তাই না?’’ তার এই মন্তব্য মূলত মস্কো এবং কারাকাসের সেই দীর্ঘদিনের দাবিকে কটাক্ষ করে করা হয়েছে, যেখানে তারা তাদের প্রতিরক্ষা সরঞ্জামগুলোকে অত্যন্ত শক্তিশালী ও দুর্ভেদ্য বলে দাবি করত।
৩ জানুয়ারির এই হামলা আধুনিক যুদ্ধে মার্কিন ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার বা ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সক্ষমতার শক্তিমত্তাকেই তুলে ধরে। এটি প্রমাণ করে যে, আধুনিক জ্যামিং প্রযুক্তির সামনে প্রচলিত রাডার সিস্টেমগুলো কতটা অসহায় হয়ে পড়তে পারে।
