
ইরান যুদ্ধের উত্তাপ কাটিয়ে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম অবশেষে যুদ্ধপূর্ববর্তী অবস্থায় ফিরে এসেছে। সোমবার সকালে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের বেঞ্চমার্ক ‘ব্রেন্ট ক্রুড’-এর দাম কমে ব্যারেল প্রতি ৭৬ ডলারের নিচে নেমেছে, যা ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগের মূল্যের চেয়েও কম।
আমেরিকা ও ইসরায়েল কর্তৃক ইরানে হামলা চালানোর আগের দিন, অর্থাৎ গত ২৭ ফেব্রুয়ারির পর তেলের দামের ক্ষেত্রে এটিকে সর্বনিম্ন পতন হিসেবে দেখছেন বাজার বিশ্লেষকরা। সোমবার সকালে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ শতাংশ কমে ৭৫.৫০ ডলারে দাঁড়ায়। পাশাপাশি মার্কিন তেলের বেঞ্চমার্ক ‘ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট’ (WTI) কমে দাঁড়িয়েছে ব্যারেল প্রতি ৭২.০৩ ডলারে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা জানাচ্ছেন, সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি চুক্তির পর হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। এই চুক্তির আওতায় আগামী ৬০ দিন কোনো মাশুল ছাড়াই এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করতে পারবে। ফলে হরমুজ প্রণালীতে আটকে থাকা শত শত তেলবাহী ট্যাংকার ও ১১ হাজারেরও বেশি নাবিকের সংকট কেটে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, “বাজার এখন স্বাভাবিক হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল হলে তাদের মজুত থাকা বিপুল পরিমাণ তেল দ্রুতই বিশ্ববাজারে চলে আসবে। এটি মাসের পর মাস নয়, বরং মাত্র কয়েক সপ্তাহের ব্যাপার।”
উল্লেখ্য, যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট উৎপাদিত তেলের প্রায় ২০ শতাংশ (দৈনিক ২ কোটি ব্যারেল) এই হরমুজ প্রণালী দিয়েই পরিবাহিত হতো। তেলের দামের এই ধারাবাহিক পতন বাংলাদেশের মতো জ্বালানি আমদানিকারক দেশগুলোর অর্থনীতিতে স্বস্তি এনে দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
