
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দিয়েছেন—দেশের অভিবাসন ব্যবস্থায় এবার আনা হচ্ছে ঐতিহাসিক সংস্কার। তার ভাষায়, ব্রিটেনে বর্তমানে যেভাবে অভিবাসন ঘটছে, তা “নিয়ন্ত্রণ নয়, বরং বিশৃঙ্খলা।” এই মন্তব্যের মধ্য দিয়েই বোঝা যায়, যুক্তরাজ্যের সরকার অভিবাসন ব্যবস্থাকে আরও সুসংগঠিত ও কঠোর করতে চলেছে, যার প্রভাব পড়বে কর্মসংস্থান, পরিবার ও শিক্ষার খাতসহ অভিবাসনের প্রতিটি ক্ষেত্রে। প্রধানমন্ত্রীকিয়ার স্টারমার বলেন, “আমরা এখনই পদক্ষেপ না নিলে, পরিস্থিতি আর নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে না।”
সোমবার (১২ মে) ডাউনিং স্ট্রিটে এক সংবাদ সম্মেলনে স্টারমার জানান, ২০২৪ সালে যুক্তরাজ্যে মোট অভিবাসী প্রায় ১০ লাখে পৌঁছেছে—যা দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর বার্মিংহামের মোট জনসংখ্যার সমান। বিষয়টি তিনি “অব্যবস্থাপনার প্রতীক” হিসেবে অভিহিত করেন। লেবার পার্টির নেতৃত্বে সরকার গঠনের পর থেকে এরই মধ্যে ২৪,০০০ অবৈধ অভিবাসীকে দেশে ফিরিয়ে পাঠানো হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। এই প্রবণতা ঠেকাতে এবং অভ্যন্তরীণ চাপ কমাতে তাঁর সরকার এখন অভিবাসন ব্যবস্থার প্রতিটি স্তরে ‘নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে আনার’ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে।
এই নতুন অভিবাসন সংস্কারে যে পরিবর্তনগুলো আসছে, তার মধ্যে রয়েছে—কাজের ভিসার জন্য যোগ্যতা বাড়িয়ে ডিগ্রিধারী দক্ষ কর্মীরাই যুক্তরাজ্যে ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবে, ইংরেজি ভাষা পরীক্ষার মান আরও কঠোর করা, এবং স্থায়ী বসবাসের আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় সময়সীমা ৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ বছরে উন্নীত করা। স্টারমার বলেন, “এই হোয়াইট পেপারে আমরা দেখাচ্ছি, অভিবাসনের প্রতিটি দিকেই সংস্কার আনছি।
আমাদের দরজা সবার জন্য নয়, বরং যাদের যুক্তরাজ্যে আসাটা যুক্তিসঙ্গত ও প্রয়োজনীয়, শুধু তাদের জন্য।” সেই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, যারা স্থানীয়দের প্রশিক্ষণ না দিয়ে সস্তা বিদেশি শ্রমিক ভরসা করছেন, তাদের জন্য কঠোর বিধিনিষেধ আসছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে অর্থনীতিতে দেশীয় দক্ষতা বাড়ানো, জনসেবার উপর চাপ কমানো এবং সামাজিক ভারসাম্য রক্ষা করাই সরকারের মূল লক্ষ্য।
এই নতুন পরিকল্পনার মাধ্যমে কিয়ার স্টারমার অভিবাসন ব্যবস্থাকে যেমন কার্যকর ও যুক্তিসম্মত করতে চাইছেন, তেমনি দেশের নাগরিকদের আস্থাও ফিরিয়ে আনতে চাচ্ছেন। যদিও অনেক খাতে, বিশেষত স্বাস্থ্যসেবা ও নির্মাণ খাতে বিদেশি শ্রমিকের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ, তবু সরকার মনে করছে, অভিবাসনের ওপর নির্ভরশীলতাকে দীর্ঘমেয়াদে কমাতে হবে। তথ্যসূত্র : আনাদোলু এজেন্সি
