
“বিরোধীদলীয় নেতা কেমি ব্যাডেনোচের দাবি: টিউলিপ সিদ্দিককে বরখাস্ত করুন”
খবর৫২.কম ডেস্ক
যুক্তরাজ্যের প্রধান বিরোধী দল কনজারভেটিভ পার্টির নেতা কেমি ব্যাডেনোচ দেশের প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমারকে আহ্বান জানিয়েছেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের ইকোনমিক সেক্রেটারি ও সিটি মিনিস্টার টিউলিপ সিদ্দিককে বরখাস্ত করার জন্য। এই দাবি জানানো হয়েছে টিউলিপের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ এবং বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উদ্বেগ প্রকাশের পরিপ্রেক্ষিতে।
দুর্নীতির অভিযোগে চাপ বাড়ছে
টিউলিপ সিদ্দিক বর্তমানে যুক্তরাজ্যের অর্থনৈতিক খাতে দুর্নীতি বন্ধের দায়িত্বে রয়েছেন। তবে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ক্রমশ বাড়ছে। বাংলাদেশে তার বিরুদ্ধে একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে প্রায় ৪০০ কোটি মার্কিন ডলার আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে, যাতে তার পরিবারের চার সদস্য জড়িত। এছাড়াও তার খালা শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠদের কাছ থেকে বিনামূল্যে লন্ডনের ফ্ল্যাট গ্রহণের বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাজ্যে গুরুতর বিতর্ক চলছে।
ব্যাডেনোচের কড়া বক্তব্য
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্সে পোস্ট করে কেমি ব্যাডেনোচ বলেছেন, “কেয়ার স্টারমার টিউলিপ সিদ্দিককে বরখাস্ত করার সময় এসেছে। তিনি দুর্নীতিবিরোধী মন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন, কিন্তু নিজেই দুর্নীতির অভিযোগে জড়িত।”
ব্যাডেনোচ আরও বলেছেন, “টিউলিপ সিদ্দিক সরকারের আর্থিক সমস্যাগুলো মোকাবেলায় মনোনিবেশের পরিবর্তে নিজেই একটি সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছেন।”
ড. ইউনূসের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে চাপ
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস সাম্প্রতিক সাক্ষাতকারে বলেছেন, টিউলিপ সিদ্দিককে তার খালা শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠদের দেওয়া লন্ডনের সম্পত্তিতে বসবাস করার বিষয়ে ক্ষমা চাওয়া উচিত। এই মন্তব্যের পর কনজারভেটিভ পার্টির নেতা কেমি ব্যাডেনোচ এই দাবি করেছেন।
নতুন অভিযোগ: বিনা মূল্যে ক্রিকেট ম্যাচ উপভোগ
সম্প্রতি দ্য টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, টিউলিপ সিদ্দিক ২০১৯ সালে অনুষ্ঠিত ক্রিকেট বিশ্বকাপের দুটি ম্যাচ বিনা মূল্যে স্টেডিয়ামে বসে উপভোগ করেছেন। এই সময় তার সঙ্গে ছিলেন তার ভাইবোন এবং তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের একজন সংসদ সদস্য।
টোরি এমপিরাও পদত্যাগ দাবি
যুক্তরাজ্যের বিরোধী দল কনজারভেটিভ পার্টির এমপিরা টিউলিপের বিরুদ্ধে পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, টিউলিপ যদি ফ্ল্যাট উপহার পাওয়ার বিষয়ে গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা দিতে না পারেন, তবে তিনি ট্রেজারি মন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করা উচিত।
এই সমস্ত অভিযোগ এবং চাপের মুখে টিউলিপ সিদ্দিকের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত।
খবর৫২.কম-এর সাথে থাকুন আরও আপডেটের জন্য।
