বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর কঠিন প্রতিবাদ
টাঙ্গাইল, ৮ আগস্ট ২০২৫ — কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি ও বীর উত্তম বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী আজ বিকেলে টাঙ্গাইল শহরের কবি নজরুল সরণিতে নিজ বাসভবনের সামনে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে কঠোর ভাষায় বলেন,
“আমি অবাক হয়েছি — মুক্তিযোদ্ধাদের একটি সমাবেশে ১৪৪ ধারা জারি করতে হয়! এটিও একটি রেকর্ড হয়ে রইল। মুক্তিযোদ্ধারা একত্র হবেন, তাঁদের মিটিং ১৪৪ ধারা জারি করে বন্ধ করা হয়েছে। এটা খুবই ন্যক্কারজনক ঘটনা হয়েছে!”
পটভূমি: বাসায় হামলা, মিটিংয়ে বাধা
গত শনিবার রাতে কাদের সিদ্দিকীর টাঙ্গাইলের বাসভবনে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে — যখন তিনি নিজেই বাড়িতে ছিলেন। রোববার কাদেরিয়া বাহিনীর মুক্তিযোদ্ধাদের একটি সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু একই সময়ে “ছাত্র-সমাজ” নামে আরেকটি সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়। ফলে প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করে — এবং মুক্তিযোদ্ধাদের সমাবেশ বন্ধ হয়ে যায়।
পুলিশ ঘিরে রাখল বাসা, কিন্তু কাদের সিদ্দিকী বললেন — “লাঠি কিছু করতে পারবে না!”
প্রতিবাদ সমাবেশ ঘিরে দুপুর থেকেই পুলিশ কাদের সিদ্দিকীর বাসার সামনে অবস্থান নেয় — লাঠি হাতে। কিন্তু সমাবেশে কাদের সিদ্দিকী উদ্দেশ্য করে তাঁর অনুসারীদের বলেন,
“পুলিশ বাইরে লাঠি হাতে দাঁড়িয়ে আছে, লাঠি যাতে প্রয়োগ করতে না হয়। যেদিন রাস্তায় নামব, সেদিন লাঠি না, বন্দুকও কিছু করতে পারবে না!”
“সামনে কঠিন সংগ্রাম — তোমাদের রাস্তায় নামতে হবে!”
তিনি আরও বলেন,
“সামনে কঠিন সংগ্রামের দিন আসছে। তোমাদের রাস্তায় নামতে হবে। আজকে যারা এসেছ, আমি খুব খুশি হয়েছি দেখে। শক্তির চেয়ে বড় কিছু নেই, তবে সেই শক্তি হতে হবে নিয়ন্ত্রিত শক্তি। অনিশ্চিত শক্তির কোনো মূল্য নেই। ভবিষ্যতে কর্মসূচি দেব, দৌড়ে আসবে।”
“যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, ততদিন জয় বাংলা থাকবে — শেখ মুজিব থাকবেন!”
কাদের সিদ্দিকী আরও স্পষ্ট করে বলেন,
“যত দিন বাংলাদেশ থাকবে, তত দিন জয় বাংলা থাকবে। যত দিন বাংলাদেশ থাকবে, তত দিন বাংলাদেশের পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব থাকবেন। আমি আবারও বলছি — যাঁরা হটকারিতা করছেন, তাঁরা শেখ মুজিব আর শেখ হাসিনাকে একসাথে মেলাবেন না। আপনাদের খুঁজে পাওয়া যাবে না।”
প্রতিবাদ সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন কাদেরিয়া বাহিনীর মুক্তিযোদ্ধারা
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন কাদেরিয়া বাহিনীর স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা, দলীয় নেতাকর্মী এবং স্থানীয় জনতা। সবাই মিলে প্রতিবাদের সুরে স্লোগান দিয়েছেন —
“১৪৪ ধারা নিষিদ্ধ! মুক্তিযোদ্ধার অধিকার রক্ষা করো!”
