গোয়ালন্দে নুরাল পাগলার দরবারে হামলা-অগ্নিসংযোগের ঘটনায় অতিরিক্ত ডিআইজি সিদ্দিকুর রহমানের স্পষ্ট আশ্বাস
রাজবাড়ী, ৮ আগস্ট ২০২৫ — গোয়ালন্দে আলোচিত আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব নুরুল হক ওরফে নুরাল পাগলার দরবারে হামলা, অগ্নিসংযোগ এবং কবর থেকে মরদেহ তুলে পোড়ানোর ঘটনায় নিরপরাধ কাউকে হয়রানি বা গণগ্রেপ্তার করা হবে না — এই আশ্বাস দিয়েছেন পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের উপমহাপুলিশ পরিদর্শক (অতিরিক্ত ডিআইজি) মো. সিদ্দিকুর রহমান।
আজ দুপুরে ঘটনাস্থল — গোয়ালন্দ পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ড, জুড়ান মোল্লার পাড়ায় নুরাল পাগলার বাড়ি ও দরবার পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এ কথা বলেন।
“প্রকৃত অপরাধীকেই গ্রেপ্তার করা হবে — কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না!”
অতিরিক্ত ডিআইজি সিদ্দিকুর রহমান স্পষ্ট করে বলেন,
“যিনি প্রকৃত অপরাধী, তাঁকেই গ্রেপ্তার করা হবে। যাঁর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য–প্রমাণ বেরিয়ে আসবে, যাঁর অপরাধ খুঁজে পাওয়া যাবে — তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে কেউ যদি প্রশাসনের লোক হন বা প্রশাসনের বাইরেও থাকেন — কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”
ঘটনার পটভূমি: দরবারে হামলা, কবর থেকে মরদেহ তুলে পোড়ানো
গত কয়েকদিন ধরে গোয়ালন্দের নুরাল পাগলার দরবার ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে স্থানীয় কিছু চক্রের হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। সবচেয়ে ভয়াবহ হলো — কবর থেকে মরদেহ তুলে নিয়ে পোড়ানোর ঘটনা। এই ঘটনা স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের জন্ম দিয়েছে।
পুলিশের তদন্ত জারি, স্থানীয়দের আহ্বান — “সহযোগিতা করুন”
ঘটনার পর থেকেই পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও গোয়েন্দা বিভাগের সদস্যরা ঘটনাস্থলে অবস্থান করছেন। অতিরিক্ত ডিআইজি আরও বলেন,
“আমরা স্থানীয় জনগণের কাছে আবেদন করছি — কেউ যদি কোনো তথ্য জানেন, পুলিশকে জানান। আমরা প্রতিটি সূত্র খুঁজে বের করব। কিন্তু নিরপরাধদের উপর কোনো চাপ দেওয়া হবে না। আমাদের লক্ষ্য — অপরাধী শাস্তি পাক, নিরপরাধ রক্ষা পাক।”
স্থানীয়রা বলছেন — “এটা ষড়যন্ত্র, সাম্প্রদায়িক উসকানি দেওয়া হচ্ছে”
স্থানীয় বাসিন্দারা খবর৫২.কম-কে বলেন, এটি কোনো সাধারণ অপরাধ নয় — এটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। নুরাল পাগলার দরবার স্থানীয় মানুষের কাছে আধ্যাত্মিক শান্তির কেন্দ্র। এখানে হাজার হাজার মানুষ আসেন প্রতিদিন। কেউ কেউ মনে করছেন, এর পেছনে রয়েছে সাম্প্রদায়িক উসকানি দেওয়ার চেষ্টা।
