মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত বাংলো সংরক্ষণে সরকারি উদ্যোগ, আপত্তি শ্রমিকদের

প্রচ্ছদ সিলেটের খবর

খবর ৫২ ডেস্ক

হবিগঞ্জের তেলিয়াপাড়া চা-বাগানের একটি ঐতিহাসিক বাংলো সংরক্ষণে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এই বাংলোটি ছিল মুক্তিবাহিনীর প্রথম সেনা সদর দপ্তর। বাংলোটিকে সংরক্ষণ করে সেখানে জাদুঘর নির্মাণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

এই লক্ষ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ন্যাশনাল টি কোম্পানির (এনটিসি) অধীনে থাকা বাংলোসহ সংশ্লিষ্ট জমির লিজ বাতিল করতে হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসককে চিঠি দিয়েছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়।

তবে চা-বাগানের শ্রমিকরা এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন। তাদের আশঙ্কা, লিজ বাতিল হলে তাদের কর্মসংস্থান ও জীবিকায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

দেশ স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সময় বাংলোটি সংরক্ষণের উদ্যোগ নিলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বাংলোটিকে জাদুঘরে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

গত ৭ এপ্রিল সিলেটের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি অ্যান্ড রিসার্চ ফাউন্ডেশনের সভাপতি কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ আবদুস সালাম (বীর প্রতীক) মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপদেষ্টাকে একটি চিঠি দেন। চিঠিতে তিনি বাংলোটিকে সশস্ত্র বাহিনীর প্রথম সদর দপ্তর হিসেবে সংরক্ষণের প্রস্তাব দেন।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইসরাত চৌধুরী জানান, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত এই স্থানটিতে জাদুঘর নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এনটিসিকে বিকল্প স্থানে নতুন স্থাপনা নির্মাণ করে দেওয়া হবে।

হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসন থেকে মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে যে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত স্থানে সরকার জাদুঘর নির্মাণ করলে এনটিসির আপত্তি নেই, তবে এনটিসির জন্য বিকল্প স্থাপনা নির্মাণ করে দিতে হবে।

হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. ফরিদুর রহমান নিশ্চিত করেছেন যে চা-বাগানের শ্রমিকরা বাংলোতে জাদুঘর নির্মাণের বিরোধিতা করছেন। তারা এ স্থানে জাদুঘর নির্মাণ চান না।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ১৯৭১ সালের ৪ এপ্রিল এই বাংলোতে একটি গোপন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যেখানে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন কর্নেল (অব.) এম এ জি ওসমানী। তিনি ভারতের আগরতলা থেকে এসে এই বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন।

বাংলোটি বর্তমানে এনটিসির ব্যবস্থাপনায় রয়েছে এবং সেখানে একটি বুলেট আকৃতির স্মৃতিসৌধ নির্মিত হয়েছে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *