
বিভ্রান্তিকর, বানোয়াট এবং উস্কানিমূলক অপপ্রচারের পুনরাবৃত্তি করায় ভারতের সামরিক নেতৃত্বের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী। তারা বলেছে, ভারতীয় জনগণ এবং আন্তর্জাতিক দর্শকদের কাছে যে মিথ্যাগুলো প্রচার করা হচ্ছে, তা ভারতীয় সামরিক যন্ত্রকে হাসির পাত্রে পরিণত করেছে।
ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনস (আইএসপিআর) বুধবার এক বিবৃতিতে বলেছে, “গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করা গেছে যে, মার্কায়ে-হক এর পাঁচ মাস পর বিহার ও পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনের আগে ভারতের সামরিক নেতৃত্ব একই বিভ্রান্তিকর, বানোয়াট এবং উস্কানিমূলক অপপ্রচার শুরু করেছে যা তারা ভারতের প্রতিটি রাজ্য নির্বাচনের আগে প্রচার করে।”
এনডিটিভির খবর অনুযায়ী, ভারতীয় সামরিক নেতৃত্বের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় পাক আইএসপিআর এই বিবৃতি দিয়েছে। ভারতীয় সামরিক অপারেশনের মহাপরিচালক (ডিজিএমও), লেফটেন্যান্ট জেনারেল রাজীব ঘাই দাবি করেছেন, মে মাসের সংঘর্ষে পাকিস্তানের ১০০ জনেরও বেশি সামরিক ব্যক্তি হতাহত হয়েছে।
আইএসপিআর তথ্য মতে, মে মাসের সংঘর্ষের সময় ভারতীয় হামলায় সশস্ত্র বাহিনীর ১৩ জন সদস্য এবং ৪০ জন বেসামরিক নাগরিকসহ মোট ৫৩ জন নিহত (শহীদ) হয়েছিলেন।
এছাড়াও, ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় সেনা কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল মনোজ কুমার কাটিয়ার এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে দাবি করেন, “ভারতের সাথে লড়াই করার ক্ষমতা পাকিস্তানের নেই”। তিনি আরও হুঁশিয়ারি দেন, আরেকটি পহেলগাম-ধরণের ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় ‘অপারেশন সিন্দুর ২.০’ শুরু করা হতে পারে।
নয়াদিল্লি ভারতীয় অবৈধভাবে দখলীকৃত জম্মু কাশ্মীরে মারাত্মক হামলার জন্য আবারো পাকিস্তানকে দায়ী করেছে। এই হামলায় বহু পর্যটক নিহত হয়। ইসলামাবাদ এই অভিযোগ তীব্রভাবে অস্বীকার করেছে এবং ঘটনাটির নিরপেক্ষ, আন্তর্জাতিক তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে।
পারমাণবিক শক্তিধর একটি দেশের সামরিক নেতৃত্বকে চরম রাজনৈতিক চাপের মধ্যে এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন বিবৃতি দিতে দেখে দুঃখ প্রকাশ করে পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা বলেছে, যে কোনো পেশাদার সৈনিকই জানেন যে অপ্রয়োজনীয় আস্ফালন ও অযাচিত মন্তব্যগুলি উগ্রপন্থার একটি চক্র শুরু করতে পারে এবং দক্ষিণ এশিয়ার শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য গুরুতর পরিণতির দিকে নিয়ে যেতে পারে।ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রেস কনফারেন্সের সুস্পষ্ট বৈসাদৃশ্য তুলে ধরে আইএসপিআর বলেছে, এটি জবাব দেওয়ার যোগ্য নয়।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “ভারতীয় নেতৃত্ব অদ্ভুত, বলিউড-শৈলীর চিত্রনাট্য উদ্ভাবন করে ইতিহাসকে তাদের পছন্দ মতো রূপ দেওয়ার চেষ্টা করছে।” এতে আরও বলা হয়েছে যে, আপাতদৃষ্টিতে ভারতীয় সেনাবাহিনী এবং রাজনৈতিক নেতৃত্ব এই ধারণার সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারেনি যে, মার্কায়ে-হকে তারা শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়েছিল।
মে মাসে দুই পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিবেশীর মধ্যে এই সংঘর্ষে নয়াদিল্লির সীমান্ত অতিক্রমকারী হামলার প্রতিশোধ হিসেবে পাকিস্তান সাতটি ভারতীয় বিমান বাহিনীর (আইএএফ) যুদ্ধবিমান গুলি করে ভূপাতিত করে।পাক সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা ভারতকে আক্রমণ করে বলেছে, বিশ্ব নয়াদিল্লিকে আন্ত:সীমান্ত সন্ত্রাসবাদের আসল মুখ এবং আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার কেন্দ্রবিন্দু হিসাবে স্বীকৃতি দেয়, যারা তাদের জনগণ এবং প্রতিবেশীদের ক্ষতির জন্য দুঃসাহসিকতা এবং আধিপত্যবাদের উপর জোর দেয়।
আইএসপিআরের বিবৃতিতে আরও সতর্ক করা হয়েছে, পাকিস্তানের জনগণ এবং সশস্ত্র বাহিনী আমাদের ভূখণ্ডের প্রতিটি ইঞ্চি পূর্ণ সংকল্পের সাথে রক্ষা করতে পুরোপুরি সক্ষম এবং প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “প্রতিটি আগ্রাসনের কাজকে দ্রুত, দৃঢ়সংকল্প এবং তীব্র প্রতিক্রিয়া দিয়ে মোকাবিলা করা হবে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্ম মনে রাখবে”। সূত্র: জিও টিভি
