
ব্রিটিশ পার্লামেন্টে মঙ্গলবার ইরানের তৈরি একটি ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ প্রদর্শন করেছে একটি অ্যাডভোকেসি গ্রুপ। ইউরোপে এই ধরনের একটি অস্ত্রের প্রথম প্রকাশ্য প্রদর্শনী ছিল এটি।‘ইউনাইটেড এগেইনস্ট নিউক্লিয়ার ইরান’ (ইউএএনআই) হাউস অফ কমন্সের স্পিকারের সহযোগিতায় শাহেদ-১৩৬ ড্রোনের এই প্রদর্শনীর আয়োজন করে। সংস্থাটি জানায়, ড্রোনটি এর আগে ইউক্রেনে গুলি করে নামানো হয়েছে।
পোল্যান্ডের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাদোস্লাভ সিকোরস্কির উপস্থিতিতে এই অনুষ্ঠানে আরও যোগ দেন টম টুগেনধ্যাটসহ প্রমুখ ব্রিটিশ আইনপ্রণেতা।মঙ্গলবার সিকোরস্কি সতর্ক করেছেন, রাশিয়া এই অঞ্চলের গভীরে আঘাত হানলে ইউরোপকে প্রস্তুত থাকতে হবে। তিনি পূর্ব দিকে ‘ড্রোন প্রাচীর’ তৈরি না করাকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলে অভিহিত করেন।
লন্ডনে ইউক্রেনে ভূপাতিত ইরানি শাহেদ-১৩৬ ড্রোন উন্মোচন অনুষ্ঠানে সিকোরস্কি ইউরোপীয় দেশগুলিকে ইউক্রেনের প্রতি তাদের সমর্থনে ‘অটল থাকার’ আহ্বান জানিয়ে বলেন, তিনি আশা করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ার অবকাঠামোর বিরুদ্ধে হামলা জোরদার করার জন্য দেশটিকে দূরপাল্লার টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করবেন।
পোল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কিয়েভকে দূরপাল্লার অস্ত্র ও বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহ করা ইউরোপকে রক্ষায় সহায়তা করে।ভবিষ্যতে আক্রমণ মোকাবেলায় ‘ড্রোন প্রাচীর’ নির্মাণের উদ্যোগ সম্প্রসারণের সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতে চাইলে সিকোরস্কি রয়টার্সকে বলেন, রাশিয়া দুর্ভাগ্যবশত, ইউরোপের গভীরে পৌঁছাতে পারে।
‘‘আমাদের এর মোকাবিলা করার জন্য প্রস্তুত থাকা উচিত, তাই আমি মনে করি আজকাল ড্রোন এবং ড্রোন-বিরোধী ক্ষমতা তৈরি না করা দায়িত্বজ্ঞানহীন হবে,’’ ব্রিটিশ পার্লামেন্টের স্পিকারের বাড়িতে ইরানি ড্রোনের পাশে দাঁড়িয়ে বলেন তিনি।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তার দেশ সম্ভাব্যভাবে কোনও ন্যাটো সদস্যকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে এই ধারণাটিকে ‘অযৌক্তিক’ বলে বর্ণনা করেছেন।
ইউনাইটেড এগেইনস্ট নিউক্লিয়ার ইরান বলেছে, তেহরানের বিরুদ্ধে নতুন আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ইরানের অস্ত্র বিস্তারের মোকাবিলায় সাহায্য করতে পারে।যার মধ্যে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের বিষয়টিও রয়েছে।
সংস্থাটি জানায়, তারা এই প্রদর্শনী সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করবে।পশ্চিমা কর্মকর্তাদের মতে, ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধের সময় ইরান রাশিয়াকে ড্রোন সরবরাহ করেছে।এই প্রদর্শনীটি এমন এক সময় হলো যখন রুশ ড্রোন পোল্যান্ডের আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছে এবং ন্যাটোর আকাশ জুড়ে বারবার অজ্ঞাত ড্রোনের দেখা মিলছে।
তুলনামূলকভাবে সস্তা, মারাত্মক এবং সহজে ব্যাপকভাবে উৎপাদিত শাহেদ-১৩৬ রাশিয়ার ইউক্রেনের বিরুদ্ধে পছন্দের অস্ত্র হয়ে উঠেছে।বছরের শুরু থেকে রাশিয়া ৩৮,০০০টিরও বেশি শাহেদ ড্রোন উৎক্ষেপণ করেছে, যা যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে এবং বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ধ্বংস ঘটিয়েছে। সূত্র: ইরান ওয়ার/এওএল
